জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আর মাত্র একদিন বাকি। সোমবার এ উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে প্রার্থী, সমর্থক ও আত্মীয় স্বজনের ভোট প্রার্থনায় ছড়িয়ে পড়ছে উত্তাপ নির্বাচনী মাঠে। প্রচারণার শেষ দিনে শনিবার প্রার্থীরা কাকডাকা ভোর থেকে সারাদিন প্রচার, প্রচারণা, গনসংযোগ ও নির্বাচনী সভায় বিরামহীন কাজ করেছেন । একই সাথে শুরু হয়ে গেছে কালো টাকার খেলাও। অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে এসে টাকার খেলায় মেতে উঠেছেন।
প্রবাসি অধ্যুষিত এ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ জন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন লড়ছেন।
শনিবার সকাল থেকে আওয়ামীলীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সংগঠনের সভাপতি বর্তমান পরিষদের চেয়ারম্যান আকমল হোসেন তার নির্বাচনী প্রতীক নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে পৌরসভার হবিবনগর, মাদ্রাসা পয়েন্ট, পৌর পয়েন্টে,বাসষ্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ শেষে বিকেলে পৌরশহরের জগন্নাথপুর মধ্যবাজারে শেষ নির্বাচনী সভা করেন। প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সিদ্দিক আহমদের সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক এমপি মতিউর রহমান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার এনামুল কবীর ইমন, আওয়ামীলীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আকমল হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজন কুমার দেব, মহিলা
ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজেরা বারী, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব আবুল হাসনাত প্রমুখ। অপর দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদির আহমদ মুক্তা আনারস প্রতীকে উপজেলার পাইলগাও, স্বাধীন বাজার, রানীগঞ্জ, পীরেরগাঁওসহ বিভিন্ন গ্রামে ভোট প্রার্থনা করে প্রচারণা করেন। বিএনপির দলীয় মনোনিত প্রার্থী জেলা বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে গনসংযোগ করেছেন উপজেলার সৈয়দপুর, ইনাতনগর, লুদরপুর, টিয়ারগাও,গোঘগাও, ইছগাও, হবিবপুর গ্রামে।
প্রথমবারে মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীর মুক্তাদীর আহমদের পক্ষে এলাকার তরুণ ও যুবসমাজের একটি বৃহৎ অংশ প্রচারণা চালিয়েছেন।
নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে ভোটারদের নিকট থেকে আভাস পাওয়া যাচ্ছে চেয়ারম্যান পদে ত্রিমুখি লড়াইয়ের। তিন প্রার্থীরই ব্যক্তি ইমেজ ভাল থাকায় ভোটাদের নিকট তাদের কদর বাড়ছে।
এদিকে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও একটি গ্রহণযোগ্য করার লক্ষে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মোট ভোটার সংখ্যা ১লাখ ৬৭হাজার ৪শ ৯৯জন। পুুরুষ ভোটার ৮৩ হাজার ৬শ ৯২ ও মহিলা ভোটার ৮৩ হাজার ৮শ ৭জন। ৮৭টি কেন্দ্রে ৪শ ৩২টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে।


