সংকটের অবসান-আসছে আস্ট্রেলিয়া

সু.খবর ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) যেন ঘাম দিয়ে জ্বর নেমেছে! আর্থিক বিষয় নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) সঙ্গে খেলোয়াড়দের যে টানাপোড়েন চলছিল সেটির সমাধান অবশেষে হয়েছে। আর তাতে এই মাসে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশে আসাটাও নিশ্চিত হয়েছে। এ খবরে স্বাভাবিকভাবেই খুশি বিসিবি ও বাংলাদেশের ক্রিকেট-সংশ্লিষ্টরা।
২০০৬ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বে শেষবার বাংলাদেশ সফরে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেবার ফতুল্লায় সিরিজের প্রথম টেস্টটিতে অল্পের জন্য জয় হাতছাড়া হয়েছিল বাংলাদেশের। ক্রিকেট বিশ্বে ছড়ি ঘোরানো সেই অস্ট্রেলিয়ার চোখে চোখ রেখে বাংলাদেশ লড়াই করেছিল যাঁর নেতৃত্বে, সেই হাবিবুল বাশার ভীষণ খুশি সংকট নিরসনের খবরে, ‘এখন আমাদের টেস্ট খেলা খুব দরকার। ওয়ানডেতে আমরা খুব ভালো করছি। টেস্ট যদি নিয়মিত না খেলতে পারি তবে এ সংস্করণে উন্নতি করতে পারব না। বোর্ড অনেক চেষ্টা করছে সিরিজটা আয়োজনের। এরপরও যদি ওরা না আসত সেটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হতো। সব বিষয়েই সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। টেস্টে আমরা কত ভালো, সেটা প্রমাণের দারুণ সুযোগ এটা।’
সমস্যা যেহেতু সমাধানের পথে, হাবিবুল এবার তাই চোখ রাখতে চান মাঠে। বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক ও বর্তমানে বিসিবির অন্যতম নির্বাচক দেখতে চান তাঁর উত্তরসূরিদের আরেকটি গৌরবগাথা, ‘ঐতিহ্যগতভাবে আমরা অতিথিপরায়ণ। অস্ট্রেলিয়াকে আমরা সেভাবেই আতিথেয়তা দেব। কিন্তু মাঠে আমরা অতিথিপরায়ণ নই! আমাদের দুটি ঐতিহ্যই আছে। মাঠের বাইরে খুবই অতিথিপরায়ণ, কিন্তু মাঠে ঠিক এর উল্টো!’
যদিও সমস্যাটি ছিল অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ তবুও তা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিসিবির জন্য। ২০১৫ সালের অক্টোবরে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সফর স্থগিত করে অস্ট্রেলিয়া। এবার নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় না থাকলেও চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় সিএর সঙ্গে স্মিথ-ওয়ার্নারদের দ্বন্দ্ব। সেটির সমাধান হওয়ায় স্বস্তির সুবাতাস বিসিবিতে।
সিরিজটা খেলতে অস্ট্রেলিয়া আসছে, এই খবরে স্বস্তির নিশ্বাস বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসের, ‘আগে কখনো (সিরিজ নিয়ে) এত চিন্তায় ছিলাম না। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। এটা ওদের নিজেদের সমস্যা। আমরা খুশি যে সিরিজটা হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের খুব একটা টেস্ট খেলার সুযোগ হয় না। নিজেদের মাঠে দুটি টেস্ট খেলব এটা আমাদের জন্য বড় ব্যাপার।’
বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান অবশ্য জানিয়েছেন, এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবিকে এখনো কিছু জানায়নি সিএ। তবে শঙ্কার মেঘ যেহেতু কেটে গেছে, জালাল ইউনুস আশাবাদী, সূচি অনুযায়ীই সব হবে।
গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠেই বলেছেন, এবার অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে চান তাঁরা। কাল দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে তো পরিষ্কার বলেই দিয়েছেন ‘ধবলধোলাই’ করতে চান অস্ট্রেলিয়াকে!
টাকা-পয়সার ঝামেলা মিটলেও এবার স্মিথদের সামনে কিন্তু নতুন চ্যালেঞ্জ!