জামালগঞ্জ অফিস
জামালগঞ্জ সরকারি খাদ্য গোদামে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি হারে ধান ক্রয় করা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গোদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. সেলিম হায়দারের অনিয়ম-দুর্নীতি বিষয়ে বুধবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিনয় কুমার দেবকে প্রধান করে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বুধবার দুপুরে সরেজমিনে জামালগঞ্জ খাদ্য গোদাম পরিদর্শন করে আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিনয় কুমার দেব বুধবার দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গোদাম পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক টেলিফোনে বিষয়টি নিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছেন।
এদিকে, গণমাধ্যমে খাদ্য গোদামে ধান কেনা নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ওসিএলএসডি মো. সেলিম হায়দার স্থানীয় সংবাদিকদের উপর চরম ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। দুপুরে দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক সিলেটের ডাক ও দৈনিক সুনামকণ্ঠের জামালগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অঞ্জন পুরকায়স্থ এবং দৈনিক মানবজমিন ও দৈনিক জালালাবাদের উপজেলা প্রতিনিধি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপসহ স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে নিজে ও তার সি-িকেটের লোকজনকে দিয়ে গালিগালাজ, লাঞ্ছনা, কটুক্তি, সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্র নিয়ে বিষোদগার ও মিথ্যা চাঁদাবাজীর মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের হয়রানী করার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত, কটুক্তি ও গণমাধ্যম নিয়ে বিষোদগার করার ঘটনায় জামালগঞ্জের বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিকার চেয়ে জেলা ধান চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ দায়েরকারী সাংবাদিকরা হলেন, অঞ্জন পুরকায়স্থ, তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, আকবর হোসেন, হাবিবুর রহমান, নিজাম নূর ও আতিকুর রহমান।
অভিযোগের অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে খাদ্যমন্ত্রী, খাদ্য সচিব, খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রককে।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ওসিএলএসডি মো. সেলিম হায়দার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘আমি সাংবাদিকদের কিছু বলি নি। সাংবাদিকরা সবাই মিলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করেছেন। আমার বিরুদ্ধে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তার কোন তথ্য প্রমাণ নেই। সংবাদটি সম্পূর্ন মিথ্যা। সাংবাদিকরা আমার মান সম্মান ক্ষুন্ন করেছেন। মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করায় কৃষকরাই ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের কাছে নিয়ে যান। ঐ সময় আমিও উপস্থিত হই, তদন্তকারী কর্মকর্তারাও ছিলেন। সাংবাদিকরা ওখানে দুর্নীতির কোন তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি’।
তদন্ত কর্মকর্তা সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিনয় কুমার দেব বলেন,‘আমি বুধবার সরেজমিনে জামালগঞ্জ গিয়ে তদন্ত করে এসেছি। তবে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আগে কোন কিছুই বলা যাবে না। আজ বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জেলা কর্মকর্তার কাছে জমা দেব।
জামালগঞ্জ উপজেলা ধান চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা বলেন,‘পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক মহোদয় আমার কাছে জানতে চেয়েছেন। আমি বলেছি সংবাদের অনেক কিছুই সত্য। আমার কাছেও কৃষকসহ অনেকেই নানা অভিযোগ করেছেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নির্দেশে বুধবার একজন তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করে গেছেন। তবে ওসিএলএসডি কর্তৃক স্থানীয় লোকজনকে দিয়ে সাংবাদিকদের এভাবে লাঞ্ছিত করা মোটেও ঠিক হয়নি।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নাঈম মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন,‘জামালগঞ্জের খাদ্য গোদাম ও ওসিএলএসডিকে নিয়ে বুধবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদটি আমার নজরে পড়েছে। এর পরপরই বিষয়টি তদন্তের জন্য সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিনয় কুমার দেবকে প্রধান করে এক সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ’ সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত ও রূঢ় আচরণ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘বিষয়টি আমার জানা নেই, খোঁজ খবর নেয়া হবে।’
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন,‘ জামালগঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাদ্য গোদামে ধান ক্রয়, ওসিএলএসডি বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতি ও সাংবাদিকদের সাথে অসৌজ্যমূলক আচরণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।’


