স্টাফ রিপোর্টার
শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের ঘটনায় গ্রহণ করা দুই মামলাকেই আইনজীবীরা অতিদুর্বল এবং অপরাধী রক্ষার মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করার সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ দুটি মামলাতেই দণ্ডবিধির আরও দুটি ধারা সংযোজন করেছে। মঙ্গলবার বিকালে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থকরা গত বুধবার হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর করেছে শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামের ৮৮ বাড়িতে। এসময় গ্রামের ৫টি মন্দির ভাংচুর করা হয়। নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামের এক তরুণের ফেসবুক আইডি থেকে মাওলানা মামনুল হককে কটাক্ষ করে কথিত স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সকাল ৮ টা থেকে ১০ টার মধ্যে এই তাণ্ডব চালানো হয়। তা-বকারীরা হামলা করে ফেরার সময় নিজেরাই ফেসবুকে লাইভ দিয়ে বলে গেছে, ‘কমপক্ষে এককোটি টাকার ক্ষতি করে গেলাম। হিন্দুদের মধ্যে কম্পন তুলে গেলাম। আল্লামা মামুনুল হককে নিয়ে কটুক্তি করলে পরিণাম কী হবে বুঝিয়ে দিয়ে গেলাম।’ ফেসবুকের এমন লাইভ পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মীসহ অনেকের কাছেই রয়েছে।
এ ঘটনায় দেশব্যাপি তোলপার হলেও শাল্লা থানায় গ্রহণ করা দুই মামলাকেই দুর্বল মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেন আইনজীবীরা।
ঘটনার পর নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল বাদী হয়ে ৫০ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ শ’ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩৭৯/৩৮০/৪২৭/২৯৫/৫০৬ ও ৩৪ ধারা সংযোজন করা হয়। একইভাবে পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর মো. আব্দুল করিমের দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ শ’ জনকে আসামী করা হয়। এই মামলায়ও দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭/ ৪৪৮/ ৩৭৯/৩৮০/২৯৫/৪২৭ ও ৩৪ ধারা সংযোজন করা হয়। মামলার তারিখ উল্লেখ করা হয় ১৮ মার্চ ২০২১ খ্রি.।
এই দুই মামলার এজাহার দেখে, আইনজীবীরা বলেন, এমন একটি মর্মস্পর্শি ঘটনায় দায়সারা গোচের মামলাদায়ের কোনভাবে কাম্য নয়। ক্ষতিগ্রস্তরা তাতে ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ কমে যাবে। এই সংবাদ সোমবার ‘দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’ এ ছাপা হয়।
মঙ্গলবার বিকালে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, তারা আগেই বলেছিলেন আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনে আরও ধারা সংযোজন করবেন। মঙ্গলবার দুটি মামলায়ই দণ্ডবিধির ৫০৫ এ এবং ৩৮২ সংযোজন করে দেওয়া হয়েছে।


