সংস্কৃতির এই দুই মহাজনের নামে স্মৃতিকেন্দ্র হবে

জগন্নাথপুর অফিস ও স্টাফ রিপোর্টার
রাধারমণ দত্ত দেশের লোক সংস্কৃতির ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। একই সঙ্গে বাউল স¤্রাট শাহ্ আব্দুল করিমকে স্বাধীনতা পদক দেওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ।
শনিবার দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসন ও রাধারমণ সমাজ কল্যাণ পরিষদ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা ও দিরাইয়ে অনুষ্ঠিত আরেক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
জগন্নাথপুরের সভায় তিনি বলেছেন, রাধারমণ দত্তের স্মৃতি বিজড়িত জায়গায় আগামী জুনের মধ্যে রাধারমণ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এ নিয়ে একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, রাধারমণ দত্তের বেদখল হওয়া কিছু জমি আমরা ৬০ বছর পর উদ্ধার করেছি। পর্যায়ক্রমে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সকল জায়গা উদ্ধার করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কৃতির প্রতি আন্তরিক। এ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান একজন উন্নয়ন ও সংস্কৃতিবান্ধব মানুষ। তিনি আমাকে রাধারমণ দত্ত সহ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রকল্প গ্রহণ করতে তাগিদ দেন। আমরা সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সংস্কৃতির জাগরণে কাজ করছি।
সভা শেষে রাধারমণ দত্তের বিখ্যাত ধামাইল গান পরিবেশন করে শোনান স্থানীয় শিল্পীরা।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (্ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম’র সভাপতিত্বে ও শিক্ষক সালেহা পারভীনের পরিচালনায় সভায় অন্যদের বক্তব্য দেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, কাউন্সিলর সফিকুল হক, শিক্ষক মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমেদ মুক্তা, সহকারী পুলিশ সুপার জগন্নাথপুর সার্কেল শুভাশীষ ধর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ, প্রচার সম্পাদক আব্দুল জব্বার, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি কামাল উদ্দিন, পৌরসভার প্যানেল মেয়র সাফরোজ ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল মুকিত প্রমুখ।
পরে প্রতিমন্ত্রী কেশবপুর গ্রামে রাধারমণ দত্তের সমাধি মন্দির পরিদর্শন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বিকালে বাউল স¤্রাট আব্দুল করিমের দিরাই উপজেলার উজান ধলের জন্মভিটায় যান মন্ত্রী। সেখানে বাউল-সাধকসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, শাহ আব্দুল করিমের অনন্য সৃষ্টিসম্ভার রক্ষার জন্য রাষ্ট্র তাকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করেছে। তার ছেলে দাবি করেছেন স্বাধীনতা পদক দেবার জন্য। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক যদি আবেদন করেন তাহলে আমরা বিবেচনা করে দেখবো।
তবে একই কাজের জন্যে একুশে এবং স্বাধীনতা পদক খুব একটা দেওয়া হয় না। বিশেষ করে মরনোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয় না। তার পরেও শাহ আব্দুল করিমের বিষয়টা একেবারেই ব্যাতিক্রম। তাঁকে শুরুতেই একুশে পদক না দিয়ে স্বাধীনতা পদক দিলে আমরা তাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতে পারতাম।
তিনি বলেন, শাহ আব্দুল করিমের স্মৃতি রক্ষার্থে ইতিমধ্যে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। শাহ আব্দুল করিম এবং রাধারমণ দত্ত এই দুজনের স্মৃতি রক্ষার জন্য স্মৃতিকেন্দ্র হবে। ডিজাইনের কাজ শেষ। আশা করি আগামী জুন মাস নাগাদ পরিকল্পনা দপ্তরে পাঠিয়ে একটা সুসংবাদ দিতে পারবো আমরা।
তিনি বলেন, ২২ বরেণ্য ব্যক্তির স্মৃতিকেন্দ্র করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে এই দুজন আছেন। এই ২২ জনের মধ্যে এই দুই সংস্কৃতির মহাজন এক ও দুই হলে, তারপর অন্যরা তিন-চার নম্বর থেকে শুরু হবে।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটা তথ্য দিয়েছেন, শাহ্ আব্দুল করিম ১৯৫৫-৫৬ সনে সুনামগঞ্জ মহকুমা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। আমি এটা জানতাম না । শাহ্ আব্দুল করিমের সঙ্গে ১৯৫৫ সালে বঙ্গবন্ধুর দেখা হয় সুনামগঞ্জে। পরে বঙ্গবন্ধু তাকে টাঙ্গাইলের কাগমারির সম্মেলনে দাওয়াত দিয়েছিলেন। সেই সময়ে আব্দুল করিম এই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গিয়ে সম্মেলনে যোগদান করেন, যা আমি জানতাম না। প্রধানমন্ত্রী একদিন আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন।
আমি তাৎক্ষণিক তাঁকে জানালাম এই দুই ব্যক্তির স্মৃতি রক্ষার্থে স্মৃতিকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শাহ্ আব্দুল করিমের জন্মভিটায় মতবিনিময়ে এছাড়াও বক্তব্য দেন শাহ্ আব্দুল করিমের ছেলে বাউল নূর জালাল। এসময় জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল আবেদীন, সুনামগঞ্জের কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মতবিনিময় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন মন্ত্রী।