সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্য্য
মানব দেহে রক্ত সঞ্চালনে ধমনী বিশুদ্ধ ও শিরা দূষিত রক্ত পরিবাহী। কিন্তু ব্যতিক্রম হলো ফুসফুসীয় ধমনী দূষিত ও ফুসফুসীয় শিরা বিশুদ্ধ রক্ত পরিবাহী। তেমনি ‘আমাদের সহোদরা’ সতীশের সতীর্থ ও একই বাবা-মায়ের পরিবারের সন্তান। ব্যতিক্রম আজকের প্রয়ােেস। এঁরা সতীশের সতীর্থ, ভিন্ন পরিবার ও ভিন্ন বাবা-মা’র একমাত্র কন্যা সন্তান। ব্যতিক্রমী ‘আমাদের সহোদরা’-র কয়েকজনকে উপস্থাপন করে সতীশের পঁচাত্তর বৎসর পূর্তির জন্য গৃহীত প্রচেষ্টার সামগ্রিক রূপটিকে পরিপূর্ণতা দানও আজকের প্রয়াসের অন্যতম উদ্দেশ্য। দৃষ্টিপাত করা যাক তাঁদের স্বকীয়তার প্রতি।
(১) রূপালী মিত্র :- হাসননগরের প্রয়াত রমেশ চন্দ্র চৌধুরী ও প্রয়াত কৃষ্ণ যামিনী চৌধুরীর দুই সন্তানের একমাত্র কন্যা যিনি বাণী নামেই শহরে সুপরিচিত।
এস এস সি ১৯৭০ ও এইচ এস সি ১৯৭২, সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে।
উদ্যোক্তার ভূমিকায় নিজ বাড়িতে বুটিক শাড়ি ব্যবসায়ী হিসেবে পেশা শুরু করেন। বর্তমানে অনলাইন ব্যবসায়ী রূপালী মিত্র বিশ্বব্যাপী তাঁর ব্যবসার ব্যাপ্তি ঘটিয়ে একজন প্রতিষ্ঠিত সফল ব্যবসায়ী।
স্বামী, দুই ছেলে ও বধূরা সহ এক নাতনী নিয়ে কোলকাতায় নিজ বাড়িতে সুখ-শান্তিময় জীবন যাপন করছেন।
টিফিন বিরতিতে বন্ধুরা মিলে নিজেদের বাড়ি না গিয়ে অন্য বাড়ি বেড়িয়ে ফিরে এসে দেখা গেল ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। একজন করে জানালা টপকে ঢুকতে গিয়ে হেডমাস্টার স্যারের চোখে পড়লে অবধারিত শাস্তিস্বরূপ সবাইকে একঘণ্টা বেশি সময় ক্লাস করে পড়া দিয়ে তবেই মুক্তি মিলেছিল। পাঠ্যজীবনে মধুময়তার অনেক স্মৃতির ভান্ডারে এটিই তাঁর শ্রেষ্ঠ মধুময় স্মৃতি।
প্রজন্মের কাছে প্রত্যাশা রেখেছেন, ” সবাই মানুষের মত মানুষ হয়ে দায়িত্ব ও কর্তব্য সচেতনতা নিয়ে এগিয়ে চলুক। “
(২) নিশাত কবীর :- হাসননগরের প্রয়াত আব্দুর রইছ (এম পি) ও প্রয়াত রফিকা রইছ চৌধুরীর ছয় সন্তানের একমাত্র কন্যা যিনি লিজি নামেই শহরে সুপরিচিত।
এস এস সি ১৯৭৮। এইচ এস সি ১৯৮১ ও স্নাতক ১৯৮৪ সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ থেকে। এল এল বি, ঢাকা ল’ কলেজ, ঢাকা।
পেশায় আইনজীবী এই কন্যার পরোপকারী, আত্মীয়বৎসল ও কর্তব্যপরায়ণ হিসেবে সমাজে বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।
স্বামী, দুই ছেলে ও এক পুত্রবধূকে নিয়ে ঢাকায় নিজ বাড়িতে সুখী পারিবারিক জীবন যাপন করছেন।
দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় একঝাঁক বান্ধবীকে সাথে নিয়ে জানালা টপকে স্কুল পালিয়ে কামরাঙা খেতে মল্লিকপুর যাওয়ার স্মৃতি জীবনের শ্রেষ্ঠ সুখের স্মৃতি।
তিনি বলেছেন,”প্রজন্মকে মানুষের মত মানুষ হতে হবে। তাদের মধ্যে সততা,আন্তরিকতা ও দেশপ্রেমের বীজ বপন করতে হবে। সম্ভাবনাময় তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে বিশ্ব দরবারে শামিল করতে হবে। বর্তমানে সারা বিশ্বে কতিপয় তরুণ সমাজ ইসলাম ধর্মীয় চেতনাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বিপথগামী হয়ে পড়েছে। এই পরিবেশ থেকে তাদের দূরে থাকতে হবে।”
(৩) অনুরাধা দাশ :- সুনামগঞ্জের খ্যাতিমান আদর্শ শিক্ষক নতুন পাড়ার দীপক রঞ্জন দাশ ও মালবিকা সেনের একমাত্র উত্তরাধিকার যিনি মুন্নী নামে শহরে সুপরিচিত।
এস এস সি ১৯৯০। এইচ এস সি ১৯৯২ ও স্নাতক ১৯৯৪, সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ থেকে।
‘গোপনীয় সহকারী’, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সুনামগঞ্জ-এ পেশার শুরু থেকে বর্তমানেও চলছে। পাশাপাশি ব্যতিক্রমধর্মী ফ্যাশন ব্রান্ড ‘সই’ এর স্বত্তাধিকারী।
বাবা-মা সহ স্বামী ও পুত্র, কন্যা নিয়ে সুখী পারিবারিক জীবনে সুনামগঞ্জে বসবাস করছেন।
বাবার ‘আদর্শ’কে প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতি বৎসর পয়লা নভেম্বর প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ২৩০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে “দীপক রঞ্জন দাশ” মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সেদিন মুখে মুখে প্রিয় স্যারকে নিয়ে যে কৌতুহল ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে, সেই মুহুর্তগুলিই তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ সুখের স্মৃতি।
(৪) অনিন্দিতা চৌধুরী :- উকিল পাড়ায় অবস্থিত লম্বাবাসার সুকুমার চৌধুরী ও বিজয়া চৌধুরীর দুই সন্তানের মধ্যে একমাত্র কন্যা যিনি সীমি নামেই শহরে সুপরিচিত।
এস এস সি ১৯৯৭। এইচ এস সি ১৯৯৯, সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ এবং স্নাতক ২০০৩, সিলেট এম সি কলেজ।
স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠিত নজরুল সংগীত শিল্পী অনিন্দিতার সংগীতে হাতেখড়ি শ্রীমতি ভারতী চক্রবর্তীর কাছে। পরবর্তীতে প্রয়াত হিমাংশু তালুকদার, প্রয়াত পন্ডিত রামকানাই দাশ ও ছায়ানটেও তালিম নিয়েছেন।
সংগীত শিক্ষক হিসেবে ‘ছায়ানট’ ঢাকায় পেশার শুরু ২০০৮। বর্তমানেও এখানেই স্ব-পদে বহাল থেকে প্রতিশ্রুতিশীল সংগীত শিল্পী প্রজন্ম গড়ার কারিগরের দায়িত্ব আন্তরিকতার সাথে পালন করছেন।
স্বামী ও একমাত্র কন্যাসহ সুখ-শান্তিময় পারিবারিক জীবনে তিনি ঢাকাবাসী।
(৫) ডাঃ রাহনুমা কুমকুম :- ষোলঘরে অবস্থিত ডাক্তারের বাড়ি নামে সুপরিচিত বাড়ির ডাঃ সালেহ আহমেদ আলমগীর ও ডাঃ মালেকা বাহার লাইলী-র একমাত্র সন্তান তিনি।
এস এস সি ২০০৭। এইচ এস সি ২০০৯, এম সি কলেজ, সিলেট এবং এম বি বি এস ২০১৫, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে সদ্য ইন্টার্ণশিপ শেষে পেশার প্রবেশ দুয়ারেরর কড়ায় নাড়া পড়েছে।
সুলেখিকা ও সংগীতে সুরের ঝংকারেও তাঁর পারদর্শিতার সুখ্যাতি রয়েছে। বইয়ের রাজ্যে ডুবে জ্ঞান আহরণেও আগ্রহী।
বাবা-মা’র সাথে নিজ বাড়ি সুনামগঞ্জে বসবাসরত।


