সতের বছর ধরে নষ্ট ধর্মপাশা হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন

সু.খবর ডেস্ক
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটি মেরামত না করায় এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বাইরে থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এ সেবা পেতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের মধ্যে এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে থানা ফাংশনাল ইমপ্রুভমেন্ট পাইলট প্রজেক্ট (টিএফআইপিপি) থেকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের জন্য সরকারিভাবে একটি এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ পাওয়া যায়।
২ বছর যেতে-না যেতেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে মেশিনটি হাসপাতালের একটি কক্ষে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি সচল থাকলে রোগীরা প্রতিটি এক্স-রে করাতে গিয়ে ছোট ফিল্ম ৫৫ টাকা ও বড় ফিল্ম ৭০ টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে পারতেন। কিন্তু এটি বিকল থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দিয়ে কাজ সারতে হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এটি মেরামতের জন্য   
সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে জানানো হলেও এ সমস্যার আজও সমাধান হয়নি।
ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা গ্রামের বাসিন্দা ঠিকাদার আলমগীর কবীর জানান, হাসপাতালের মেশিনটি এত বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে অথচ এটি মেরামত করার কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে এখানে আসা রোগীরা বাইরে থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মো. নূর হোসেন বলেন, চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। হাসপাতালে এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এভাবে পড়ে থাকার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ ও হতাশাজনক। আমি আগামী উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করব।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মেডিকেল কর্মকর্তা সামছুল ইসলাম খান শাওন জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি বিকল হয়ে আছে। এটি মেরামতের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও এখনও এ সমস্যা সমাধানে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
সিভিল সার্জন আবদুল হাকিম বলেন, জেলার মধ্যে জেলা সদর হাসপাতাল ছাড়া বাকি সবক’টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন বিকল রয়েছে। আমি এ নিয়ে এক্স-রে মেশিনগুলো মেরামত করাসহ প্রয়োজনীয় লোকবলের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি।