সদর হাসপাতালের নতুন ভবনে ময়লার স্তুপ

স্টাফ রিপোর্টার
মানুষের স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন করতে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ তলা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের নতুন ভবনটিতে কিছু সেবা চালু হলেও নিয়মিত পরিষ্কার না করার ফলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে ওয়ার্ডগুলোতে। ৪ তলা ও ৫ তলায় ময়লা আবর্জনার স্তুপ তৈরি হয়েছে। সময় মতো পরিষ্কার না করার ফলেই এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বাথরুমগুলো অপরিষ্কার। হাসপাতালের রোগী ও সাথের আত্মীয় স্বজনরা বলছেন, নিয়মিত পরিষ্কার না করার জন্য নোংরা হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের মেঝেতে আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। চিপস্ বিস্কুটের প্যাকেট মেঝেতে পড়ে আছে। রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় মেঝেতে ফ্লোরিং করা আসন বৃদ্ধি করা হয়েছে। নোংরা মেঝেতে পড়েই রোগীরা লেপ্টে রয়েছেন। নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা ফেলার ঝুড়ি না থাকায় রোগীর আত্মীয় স্বজনরা বাইরে থেকে কিনে আনা খাবারের প্যাকেট ফেলে দিচ্ছেন মেঝেতে। দীর্ঘ সময় প্যাকাটে লেগে থাকা খাবার পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে। বাথরুমের ফ্লাশ ও জলের ব্যবস্থা থাকলেও ময়লা মাড়িয়ে যেতে হয়। বাথরুমের ফ্লোরেও শ্যাওলা পড়ে পিচ্ছিল হয়ে রয়েছে। এতে পা পিছলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বাসিন্দা সায়েদ হোসেন সবুজ বলেন, আমার ভাতিজার শ্বাস কষ্ট। ৩০ জানুয়ারি রাতে সদর হাসপাতালে এসেছি। ৪ তলার এই শিশু ওয়ার্ডেটি অপরিষ্কার। দুর্র্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নাক চেপে ওয়ার্ডে আসতে হয়। ভালো মানুষকেই এখানে আসতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়।
আমবাড়ির রহিমা বেগম বলেন, এত সুন্দর একটা হাসপাতালের ভেতরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে অবহেলার কারণে। বাথরুমও অপরিষ্কার। পুরো বাথরুমের ফ্লোরে জল পড়ে আছে। গতকাল সন্ধ্যায় এক শিশু পিছলে পড়ে মাথায় আঘাত পেয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে। তবু আমরা নিয়মিত ওয়ার্ডগুলো পরিষ্কার করি। ১ জন রোগীর সাথে ৩-৪ জন করে আসেন। তারা হাসপাতালের ভেতরে ময়লা আবর্জনা ফেলেন। তবে এক সপ্তাহের ভেতরে হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার হয়ে যাবে।