আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা গ্রামের বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিন। তিনি একজন সফল মাছ চাষী। অন্যের পুকুরে মাছ চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেই শুরু করেন মাছের চাষ। অল্প সময়ে একে একে গড়ে তোলেছেন ৮টি মাছ চাষের পুকুর । কৃষি কাজের পাশাপাশি তিনি কাজ করছেন মাছ চাষের কাজ।
হেলাল উদ্দিন জানান, ৬ বছর আগে পুকুরে মাছের চাষ শুরু করেন তিনি। প্রথম বছর ৪টি পুকুরে আড়াই লাখ টাকার পোনা মাছ ছাড়েন। কয়েক মাস পরেই মাছ বিক্রি করে লাভ করেন ২ লাখ টাকা। নিজের ৪টি পুকুরে মাছ চাষে মুনাফা ভাল হওয়ায় পরের বছর ভাড়া নেন আরও ৪টি পুকুর। এখন ৮টি পুকুরে মাছ চাষ করছেন হেলাল উদ্দিন।
সব পুকুরেই জমজমাট মাছের চাষ তাঁর। প্রতিদিন ২ বার মাছের খাদ্য দেন পুকুরে। মাছের কিলিবিলি ও জলকেলি দেখতে ভাল লাগে তাঁর। এই নেশায় আর পেশায় লেগে থেকে এখন প্রতি বছর মাছের চাষ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা লাভবান হচ্ছেন বলে জানান হেলাল উদ্দিন। তাঁর প্রতিটি পুকুরে রয়েছে রুই, মৃগেল, গনিয়া, বিভিন্ন প্রজাতির
কার্পো, ঘাসকাপ, সরপুটি, কাতল, পাঙ্গাস ইত্যাদি মাছ। কৃষি কাজের চেয়ে পুকুরে মাছের চাষ লাভজনক বলেও জানান তিনি।
হেলাল উদ্দিন জানান, পুকুরের মাছ চাষে ঝুঁকিও আছে। পুকুরের পাড় যতই উঁচু হউক, তবুও যেন নিরাপদ নয়। বন্যার সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় আমার। এবারের বন্যায় পাহাড়ি ঢলে নিমিষেই আমার ৮টি পুকুর তলিয়ে যায়। চতুর্দিকের হাওর বিলে ছড়িয়ে পড়ে অনেক মাছ। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ টাকা।
এবার ৮টি পুকুরে ১০ লাখ টাকার পোনা মাছ ছেড়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু পাহাড়ি ঢলে মাছ ভেসে যাওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবুও ব্যবসায় টিকে থাকতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
হেলাল উদ্দিন কোনো সময় সরকারীভাবে ঋণ পাননি। ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে প্রয়োজন রয়েছে সরকারী ব্যবস্থাপনায় কৃষি ঋণের। কিন্তু কৃষি ঋণ পেতে যে ঝামেলা পোহাতে হয়, সে জন্য তিনি নিজের পুঁজি দিয়েই চালাচ্ছেন পুকুরে মাছের চাষ।
হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি প্রথমে একটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করি। এতে ভাল মুনাফা হয়। মাছ চাষের লাভ থেকেই পরের বছর পুকুরের সংখ্যা ও পোনা মাছের সংখ্যা বাড়াতে থাকি। এভাবে এখন আমার পুকুর রয়েছে ৮টি। এই পুকুরগুলো থেকে প্রতি বছর আমি প্রায় ৫ লাখ টাকা মুনাফা পাচ্ছি। এবার বন্য্য়া ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুষিয়ে উঠার চেষ্টা করছি। আমার পুকুরে মাছের চাষ সম্প্রসারণ করতে প্রয়োজন সরকারীভাবে কৃষি ঋণের। কিন্তু সরকারী ঋণ পেতে যে ঝামেলা পোহাতে হয়, সেই জন্য আমি ঋণ নিতে চাইনি। আমার নিজস্ব পুঁজি দিয়েই চালিয়ে যাচ্ছি মাছের চাষ।’


