সবজি চাষে লাভবান গুলছেরা

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে তেলিয়া লামাপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য গুলছেরা বেগম। বাড়ির আশপাশে নাগা মরিচ সহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন তিনি। এরমধ্যে রয়েছে- নাগা মরিচ, করলা, লেবু, শিম, কুমড়া, ও পেঁপে। এ বছর নাগা মরিচ সহ বিভিন্ন সবজি বিক্রি করে লাখ টাকার উপরে আয় করেছে তিনি।
গুলছেরা বেগমের সাথে আলাপ করে জানা যায়, গত বছর তিনি একটি নাগা মরিচের চারা বাড়িতে লাগিয়েছিলেন। পরে এই গাছের বীজ করে প্রচুর চারা উৎপাদন করেন। প্রতিটি চারা বিক্রি করেন ২০ টাকা করে। এছাড়াও বাড়ির আশেপাশে শতাধিক চারা রোপন করেন তিনি। গত তিন মাস যাবৎ মরিচ বিক্রি করছেন তিনি। নাগা মরিচের পাশাপাশি চাষ করেছেন নানা ধরনের শাক সবজিও। উৎপাধিত মরিচ ও শাক সবজি স্থানীয় বাজার সহ বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করেন তার স্বামী। প্রতিটি মরিচ পাঁচ টাকা করে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ শত মরিচ স্থানীয় বাজার সহ বিভিন্ন হাটে বিক্রি করছেন।
তিনি আরও জানান, এই অঞ্চলে নাগা মরিচের চাষ আমি প্রথম করেছি। তিন বছর আগে এনজিও সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশ জামালগঞ্জ শাখার আয়োজনে ৮০জন হতদরিদ্র মহিলা নিয়ে একটি সংগঠন করি। সেই সংগঠনের সকলেই সবজিও হাস মুরগী পালনের প্রশিক্ষণ দেয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিজনকে ৪ হাজার ৭শত টাকা করে সবজি চাষ ও হাঁস মুরগি পালনের জন্য দেন। এই টাকা দিয়ে কেউ হাঁস মুরগি পালন কেউ সবজি চাষ করে সংসারের আয় বাড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, গত বছর আমি কুমড়া চাষ করে ৬০হাজার টাকা বিক্রি করেছি। এবারও রমজান মাসের আগ থেকেই নাগা মরিচ বিক্রি করছি। এতে প্রায় ৭০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়েছে।
গুলছেরার স্বামী আব্দুল মালিক বলেন, নাগা মরিচ চাষে সফলতা দেখে অন্যরাও চারা কিনে নিয়ে মরিচের চাষ করছেন। প্রথম অবস্থায় চাষ করেই লাভের মুখ দেখছি। এই রকম একটি সম্ভাবনার চাষে কৃষি অধিদপ্তর সহযোগিতা করেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, মাঝে মাঝে এসে দেখে যান ও পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন বলেন, প্রতিটি গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে শাকসবজি চাষ করে নারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। আমরা তাদেরকে সবজি চাষের জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকি। প্রতিটি ইউনিয়নে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ নারীদের সবজি চাষ করার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন।