স্টাফ রিপোর্টার
শিল্প সাহিত্যের সব ক্ষেত্রকেই আলোকিত করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর লেখনি আমাদের শৈল্পিক চেতনাকে জাগ্রত রাখে। ষাটের দশকে পাকিস্তান আমলে রবীন্দ্রনাথকে একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন অজুহাতে বাতিল করতে চেয়েছে- বাঙালির মননকে অবরুদ্ধ করতে।
রবীন্দ্রনাথ ধর্ম, রাষ্ট্র ও সমাজের ত্রি-মাত্রিক দ্বন্দ্ব তিনি বিভিন্ন প্রবন্ধে তুলে ধরেছেন। রাশিয়া ভ্রমণের সময় তিনি কমিউনিজমকে সমর্থন দিয়েছেন আবার পরবর্তী সময়ে কমিউনিজম এবং ক্যাপিটালিজম দুইটিকেই সমালোচনার চোখে দেখেছেন। পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত রাজনীতি তাঁর ভাষায় ‘আশ্বাসের ডুগডুগি বাজানো মস্ত তামাশায় পরিণত হবে’। গোরা উপন্যাসে তিনি দেখিয়েছেন- আধুনিকতা মানেই কেবল উগ্র ধর্ম বিরোধীতা নয়। আবার ধর্মও কখনও কখনও অমানবিক রূপ ধারণ করতে পারে আবার পুঁজিবাদ ভিত্তিক কল্যাণকামী রাষ্ট্রও কিন্তু মানুষের চাইতে আইন আদালতের কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সেখানে মানুষের চাইতে বস্তু বেশি প্রধান্য পেয়ে যাচ্ছে। সেই ধারণা কিন্তু রবীন্দ্র অনেক আগেই আমাদের দিয়েছেন। তাকে যে এখনও আমরা প্রাসঙ্গিক বলছি তা কিন্তু এই দ্বন্দ্বের ভেতর দিয়ে আসার কারণেই। এখন আমরা এসে আবার পুনর্বিবেচনা করছি এসব বিষয়।
চলিত ভাষা প্রমথ চৌধুরী প্রচলন করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ সার্বিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন এবং শেষ বয়সে সমস্ত লেখায় চলিত ভাষাটাকে তিনি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি গ্রহণ না করলে এতো সহজে ভাষা বিপ্লব সংগঠিত হতে পারতো না। সারাজীবন ধরে তিনি সাহিত্যের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষাকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিতর্কে গিয়েছেন। বিতর্কে যাওয়াটাই আধুনিকতার প্রক্রিয়া আর বাতিল করাটাই হচ্ছে মৌলবাদ। তিনি সব সময় আধুনিকতার পক্ষে ছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ শিক্ষা সম্পর্কে বলেছেন- তাকেই বলি শ্রেষ্ঠ শিক্ষা যা কেবল তথ্য পরিবেশ করে না- যা বিশ্ব সত্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আমাদের জীবন গড়ে তুলে। তিনি চাইতেন- শিক্ষার মাধ্যম হবে মাতৃভাষা। তবে আমরা আজ সেখান থেকে সরে এসেছি। তাঁর শিক্ষা নীতি তিনটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল- স্বাধীনতা, সৃজনশীলতা আত্মপ্রকাশের সুযোগ ও প্রকৃতির সঙ্গে সক্রিয় সংযোগ। সমাজ রাষ্ট্রের সকল কর্মকা-ে, আমাদের জীবন যাপনের সর্বত্রই রবীন্দ্রনাথ প্রাসঙ্গিক।
সোমবার রাত সাড়ে ৮ টায় দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের আয়োজনে অনলাইনে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানের এসব কথা বলেন বক্তারা। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে সঙ্গীতশিল্পী রবিউল হাসান গেয়ে শোনান ‘হে নূতন,/দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ/তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন/ সূর্যের মতন’।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আলোচক ছিলেন সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. রোখসানা চৌধুরী এবং কবি ও লেখক কুমার সৌরভ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানের মাঝে মাঝে কবিগুরুর গান ও কবিতা শোনান দুই জন বিশিষ্ট শিল্পী। রবিউল হাসান গেয়ে শোনান ‘নয় নয় মধু খেলা, কত বার যে নিভল বাতি..’, ‘জীবনে আমার যত আনন্দ পেয়েছি দিবস-রাত/সবার মাঝারে আজিকে তোমারে স্মরিব জীবননাথ..’ এবং ‘শুধু তোমার বাণী নয় গো, হে বন্ধু, হে প্রিয়,/মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার পরশখানি দিয়ো..’।
বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী শিখা সেনগুপ্তা আবৃত্তি করেন ‘দুই বিঘা জমি’, ‘দুঃসময়’ ও ‘ ‘রূপনারানের কূলে’।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, কবিগুরুর সমাজ ভাবনাও আমাদের চিন্তার জগৎকে প্রভাবিত করেছে। রবীন্দ্রনাথ এমন একটা সমাজ দেখতে চেয়েছিলেন, যেখানে মানুষ সর্বোচ্চ মানবিক গুণাবলি নিয়ে বসবাস করবে। তিনি বলেছিলেন- ৫ জনে মিলিয়া খাইলে পেটও ভরে, আনন্দও মিলে এবং পাওয়া যায় আত্মরক্ষার উপায়। তিনি ব্যক্তিসত্তার সর্বজনীন একাত্ততা কামনা করতেন সব সময়। রবীন্দ্রনাথের অন্তরাত্মা ছিল মানবিকতার পক্ষে। তিনি মনে করতেন সমবায় পদ্ধতিতে কৃষকদের সংগঠিত ও যান্ত্রিক চাষাবাদের ব্যবস্থা করা গেলে কৃষকদের দৃঃখ দুর্দশা দূর হবে। তিনি নিজের জমিদারি এলাকা শিলাইদহ ও পতিসরে এই ব্যবস্থা চালুও করেছিলেন। করেন কৃষকদের ঋণদানের ব্যবস্থাও। সমাজে বৈষম্যের অবসান চেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ।
- শান্তিগঞ্জে বাসের ধাক্কায় পরিবহন শ্রমিকের মৃত্যু
- হোটেল শ্রমিক নেতাদের উপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ


