শহীদ নূর আহমেদ
৪ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে ৫ তলা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শহীদ তালেব ছাত্রাবাস। থাকা-খাওয়া, বিনোদন, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ ১০০ জন শিক্ষাথী থাকার সুব্যবস্থা থাকবে এখানে। তবে প্রকল্পের আওতায় এটি নির্মিত হচ্ছে ‘ছাত্রীনিবাস’ নাম দিয়ে।
জেলার উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আবাসিক ব্যবস্থার সুবিধার্থে ছ্ত্রাাবাসটি নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় ভোগান্তি নিরসনে আশার আলো দেখছেন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিদ্যা অর্জন করতে আসা ছাত্ররা। ছাত্রীদের জন্যে আবাসন ব্যবস্থা থাকলেও প্রকল্পের অনুমোদনে কেন ছাত্রীনিবাস নামকরণ করা হয়েছে এ প্রশ্নও তোলছেন কলেজের ছাত্ররা।
ছাত্রী নিবাস হিসেবে প্রকল্পের অনুমোদন হওয়ায় নির্মাণাধীন শহীদ তালেব ছাত্রাবাসে থাকা-না থাকা নিয়ে সংশয় রয়েছে ছাত্রদের। তবে ছাত্রাবাসের কাজ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অভিভাবক ও সুশীল সমাজের মতামতের নিয়ে ছাত্রদের থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, শহরের হাছননগরের পুরাতন মুসলিম হোস্টেল বা শহীদ তালেব ছাত্রাবাসটি ভেঙে নির্মাণ হচ্ছে ৫ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক একটি ছাত্রাবাস। ৫ তলা ফাউন্ডেশন হলেও সম্পন্ন হবে ৪ তলার কাজ। ১০০ জন শিক্ষার্থী ধারণ ক্ষমতায় নিচ তলায় থাকছে ডাইনিং, টিভি রুম, হলরুমসহ কিচেন সুবিধা। প্রতি তলার দুই পাশে থাকছে উন্নত টয়লেট কর্নার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ছাত্রাবাসের কাজ শুরু হলেও শেষ করার মেয়াদ ধরা হয়েছে ৫৪৫ দিন। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে নিচ তলার কাজ।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্রীদের আবাসিক সুবিধার জন্যে কলেজের পাশে একটি ছাত্রী নিবাস থাকলেও দীর্ঘদিন ছাত্রদের আবাসিক ব্যবস্থা নিয়ে জটিলতা পোহাতে হয়েছে ছাত্রদের।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের তপন দাস নামে এক ছাত্র বলেন, আমি ধর্মপাশা থেকে সুনামগঞ্জ কলেজে পড়াশুনা করতে এসেছি। বর্তমানে একটি মেসে অবস্থান করছি। মেসে থাকা খাওয়ায় অনেক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে আমাদের। তালেব ছাত্রাবাস নির্মাণ হওয়ায় আমি অনেক খুশি। শুনেছি এখানে ১০০ জন ছাত্র থাকতে পারবে। তবে এখানে ছাত্র থাকবে কি ছাত্রী থাকবে এটি নিয়ে আমরা সংশয়ে আছি।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো.আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ছাত্রাবাসটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় আমরা সবাই খুবই আনন্দিত। ছাত্রীনিবাস হিসেবে প্রকল্পের অনুমোদন হওয়ায় ছাত্রদের থাকার বিষয়টি নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে আমাদের। তবে নির্মাণ কাজ শেষ হলে ছাত্রদের থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


