স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে অনলাইনে একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার রুটিন প্রকাশিত হয়েছে। রুটিন প্রকাশ হওয়ায় পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা করছেন শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ এর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রুটিন প্রকাশিত হয়।
জানা যায়, মহামারি করোনা ভাইরাসে কারণে মার্চ মাস থেকে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা নিচ্ছে। এর ধারাবাহিতকায় জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ অনলাইনে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার রুটিন প্রকাশ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। রুটিনে চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে অনলাইনে ৫০ নম্বরের এম. সি. কিউ পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘদিন কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ধারাবাহিতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু কলেজের শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে।
সালেহীন চৌধুরী বলেন, অনলাইনে কলেজে পরীক্ষা নেয়া অসাংবিধানিক। তিনি কলেজ প্রশাসনকে পরীক্ষার বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেন। একই পোস্টে আব্দুল বাসির নামে এক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন পরীক্ষার্থীরা অনলাইনে বাসায় বই দেখে পরীক্ষা দেবে।
গণিত বিভাগের ৩ বর্ষের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান রিয়াদ লিখেছেন, সুনামগঞ্জ বসে গুলশান বনানীর চিন্তা করলে হবে না, স্মার্ট ফোন, নেটওয়ার্ক আর ডাটা সরবরাহ করে রোজই পরীক্ষা নেওয়া হোক। তার আগে নয়। এমন সিদ্ধান্ত আমরা মানিনা। তার পোস্টে কলেজের শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসাইন, মোহাম্মদ সালমান, রেজাইল করিম বাদল, এ.এস.এম মিসবাউদ্দোজা মন্তব্য করে সমর্থন জানান।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী এ. বি সালাম বলেন, প্রতিটা শিক্ষার্থীর স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সুবিদা নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে এর একাদশ শ্রেণির অনলাইন বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করার দাবি জানাচ্ছি। এ. বি সালামের পোস্টে কলেজ ছাত্রলীগের নেতা নজরুল ইসলাম সাগর মন্তব্য করে সর্মথন জানিয়েছেন।
বামপন্ত্রী ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মনির হোসেন দূর্জয় বলেন, আমরা ইতিমধ্যে প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কলেজ প্রশাসনকে এরকম বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত থেকে সড়ে আসার আহবান করেছি। কিন্তু তারা সেটি বিবেচনায় নেননি। এই গণবিমুখী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামবো।
ভাইস প্রিন্সিপাল মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা একটা আপদকালীন সময় পার করছি। সেক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা মেনেই পরীক্ষার আয়োজন করেছি। যাদের ডিভাইস নেই বা উন্নত ইন্টারনেট সুবিধা নেই তাদের বিষয়ে পরে আমরা বিবেচনা করবো।


