সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক সংকট দূর করুন

মাত্র ৯ জন শিক্ষক দিয়ে আড়াই হাজার ছাত্রীর একটি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে না। চলতে যে পারে না সেটি স্বীকার করেছেন খোদ কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলেছেন, স্যার না থাকায় ক্লাস হয় না; তাই তারা কষ্ট করে আর কলেজেই যান না। শিক্ষকরা বলেছেন, একাধিক পাবলিক পরীক্ষার দায়িত্বসহ প্রশাসনিক কাজকর্ম সম্পাদন করার পর ক্লাস নেয়ার মতো সময় তাদের হতে কমই থাকে। এরকম এক অচলাবস্থার মধ্যে চলছে জেলার নারী শিক্ষার একমাত্র সরকারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ। ১৯৮৬ সনে কলেজটি বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯৮ সনে জাতীয়করণ হয়। ২০১১ সনে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। আরও কয়েকটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালুরও দাবি রয়েছে কলেজে। স্থানীয় জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে কলেজের একাডেমিক ভবন সংকট দূরিকরণার্থে পুরাতন কারাগার ভবনকে কলেজের বর্ধিত ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন সরকার। কিন্তু মূল সমস্যা যেটি সেই শিক্ষক সংকটের আর সমাধান হচ্ছে না। ফলত জেলার একমাত্র নারী উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার বিস্তারে বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসারে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। কলেজে অধ্যয়নরত আড়াই হাজার নারী শিক্ষার্থীসহ জেলাবাসীর দাবি অবিলম্বে কলেজের তীব্র শিক্ষক সংকট দূর করার।
গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় যে, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা, পরিসংখ্যান, মনোবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যাÑ এমনসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কোন শিক্ষক নেই কলেজে। এরকম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদেরকে বাধ্য হয়ে প্র্ইাভেট পড়ার উপর অধিকতর নির্ভরশীল হতে হয় এবং এর প্রভাবে অভিভাবকদের পকেট থেকে মোটা অংকের টাকা মাসে মাসে খসে পড়ছে। আর যেসব অভিভাবকের টাকা নেই (এই রকম অভিভাবকই বেশি) তারা খারাপ ফলাফলের বৃত্তে আটকে পড়ে জীবনের আশার প্রদীপকে নিভিয়ে ফেলতে বাধ্য হচ্ছে। উপরন্তু মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের জন্যও এটি মারাত্বক প্রতিবন্ধকতা। নারী শিক্ষার জন্য এই অবস্থা খুবই হতাশাজনক। সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে বিষয়টি বুঝতে হবে এবং অবিলম্বে কলেজের শূন্য পদসমূহে দ্রুত শিক্ষক পদায়নের ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমরা আশা করি জেলা সদরের এই কলেজটিকে যেভাবে ধাপে ধাপে উন্নত করা হচ্ছে বিভিন্ন সরকারের আমলে, সেভাবে বর্তমান শিক্ষক সংকটটিও সমাধানে ব্রতী হবেন বর্তমান সরকার।  কলেজ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁরা যদি নিজেদের এই সমস্যার কথাটি দায়িত্বশীলদের নজরে যথাযথভাবে আনয়ন করেন এবং সমাধানের ব্যাপারে স্থানীয় নেতৃত্বের (বিশেষ করে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী) সহযোগিতা নেন তাহলে আমাদের বিশ্বাস শতভাগ না হোক আশানুরূপ অগ্রগতি হবে। আমরাও সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক সংকটের প্রতি সংসদ সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সব শেষে নারী শিক্ষার জন্য আলোকবর্তিকাস্বরূপ জেলার এই উচ্চ শিক্ষাপীঠের একটি শিক্ষাবান্ধব চেহারা দেখার বিষয়ে আমরা ভীষণভাবে আশাবাদী থাকতে চাই।