সরে দাঁড়ালেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মজলুল

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বর্জন করলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মজলুল হক। ইউনিয়ন নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক জগন্নাথপুরের ইউ্এনও মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের নিকট ও জগন্নাথপুরের   গণমাধ্যমে শুক্রবার তিনি লিখিতভাবে নির্বাচন বর্জনের বিষয়টি জানিয়েছেন।
মজলুল হক লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, গত ২৮ মে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আমিও অংশগ্রহণ করি। ২৬ মে মহামান্য হাইকোর্টে সীমানা সংক্রান্ত বিষয়ে আমি একটি মামলা দায়ের করলে হাইর্কোট রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নির্বাচন ৩ মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে মহামান্য সুপ্রিমকোর্ট স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। কিন্তু মহামান্য সুপ্রিমকোর্ট নির্বাচনের পক্ষে কোন তারিখ ধার্য্য না করলেও নির্বাচন কমিশন হাইর্কোটের সেই আদেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করে হঠাৎ আইন ও বিধি লংঘন করে সিডিউল বর্হিভূতভাবে ৪ জুন  রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ভোট গ্রহণের নির্দেশনা দেন। আইনের প্রতি কোন তোয়াক্কা না করে নির্বাচনের একদিন পূর্বে নির্বাচন কমিশন কিভাবে নির্বাচনের পক্ষে নির্দেশনা দিয়েছেন তা আমার বোধগম্য নয়। এছাড়াও গত কয়েকদিন আগে মাধবপুর থানার নোয়াপাড়া এলাকায় আমার প্রতিদ্বন্দ্বি নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তার লোকজন আমার উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। তাদের হুমকিতে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এমতাবস্থায় আমার জানমালের নিরাপত্তার অভাবে বাধ্য হয়ে আমি নির্বাচন বর্জন করে ঢাকায় চলে গেলাম।
এদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম রানা তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, গত ৫ বছরে এলাকা উন্নয়নে মজলুল হক কোন কাজ করেন নি। সরকারী অর্থ লুটপাট করে নিজের আখের গুছিয়েছেন। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে মহামান্য হাইকোর্টকে মিথ্যা ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা চালিয়েছেন। তার অসৎ উদ্দেশ্য যখন ইউনিয়নবাসীর নিকট পরিষ্কার হয়ে উঠে তখনই তিনি নির্বাচনে পরাজয়ে ভয়ে নির্বাচন বর্জন করেছেন।
রানীগঞ্জ ইউনিয়ন নির্বাচন থেকে নির্বাচন বর্জনের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ হুমুয়ুন কবীর।