জামালগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সাচনাবাজারের বর্তমান বেহাল অবস্থা নিয়ে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছ্।ে সাচনাবাজার বণিক সমিতির সভাপতি ইউসুফ আল আজাদ বাজারের ১১ টি সমস্যা উল্লেখ করে সমাধানের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদনপত্র দাখিল করেছেন বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ১১টি সমস্যার মধ্যে রয়েছেÑ বাজারের সরকারি জায়গা জোর দখল করে ঘর নির্মাণ, জগন্নাথ মন্দিরের জায়গা বেদখল করে রাখা, সিএন্ডবি ও ব্যাক রোডের বেদখলকৃত জায়গা উদ্ধার, অবৈধ লেগুনা-মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, বাজারে সুষ্ঠু পয়নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা, মাছ বাজার সংস্কার, সাচনা লামাবাজার থেকে বেহেলি রোডের স্থানে স্থানে দখল করা জায়গা উদ্ধার ইত্যাদি। লিখিতভাবে যেসব সমস্যার উল্লেখ করা হয়েছে তার বাইরেও এই ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্রের রয়েছে আরও বহুবিধ সমস্যা। জেলার একটি প্রাচীন বাজারকে সমূহ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সমস্যার আকার দিন দিন আরও বাড়তে থাকবে।
সাচনাবাজারটি সুরমা নদীর তীরবর্তী এমন এক স্থানে অবস্থিত যেখানে মেঘনা নদী থেকে সহজে নদীপথে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। এই ভৌগোলিক সুবিধার কারণে অতীতে এখানে বিশাল বাজার গড়ে উঠেছিল। এই সাচনা বাজারটি জেলার বৃহৎ বাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাণিজ্যিক পরিবহনে জলপথের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে এখন অবশ্য এই বাজারে পাইকারি বেচাকেনা আগের তুলনায় কমে গেছে। কিন্তু একইসাথে স্থানীয় মানুসের বর্ধিত চাহিদার প্রেক্ষিতে বাজারটি তার জৌলুষ হারায়নি এতটুকু। পাইকারি ব্যবসায় কমে গেলেও খুচরা ব্যবসায় ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে। সাচনাবাজারে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি মনোরম মার্কেট। এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি উল্লেখিত সমস্যার বাইরেও নদী ভাঙনের হুমকিকবলিত। ইতোমধ্যে বাজারের একটি বড় অংশ সুরমার ভাঙনে বিলীন হয়ে পড়েছে। সাচনাবাজারের পশ্চিমপাড়ে উপজেলা সদর জামালগঞ্জের অবস্থান। উপজেলা সদর ও সাচনাবাজারকে সংযুক্তকরণের লক্ষে সুরমা নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি বহু দিনের। বাজারটিকে টিকিয়ে রাখতে বিরাজমান সকল সমস্যাকে একসাথে নিয়েই সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। তবে সব সমস্যা একসাথে সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং কোনটির পর কোনটি বাস্তবায়ন করতে হবে তার ক্রম নির্ধারণ করা আবশ্যক। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী নেতাদেরই প্রাথমিক উদ্যোগ নিয়ে এর সাথে প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
জেলার প্রাচীনতম এই বাজারটি অস্তিত্ব সংকটে পড়–ক এটি কারও কাম্য নয়। এই বাজারের উপর নির্ভর করে জীবিকা পরিচালনা করেন হাজার হাজার মানুষ। বাজার থেকে আহরিত রাজস্বের পরিমাণও কম নয়। সুতরাং সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সাচনাবাজারকে রক্ষা ও আরও কার্যকর করে তোলার লক্ষ্যে জরুরিভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিশেষ করে বাজারের সরকারি বা বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কিংবা রাস্তা-ঘাটের যে জায়গা প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছেন সেগুলো উদ্ধারের জন্য অতি জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। দখলদারিত্ব একটি মারাত্বক সামাজিক ব্যাধি। এটি দুর্বলের অধিকার হরণ করে। দখলদারিত্ব উচ্ছেদে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থান বাঞ্ছনীয়। দখলদারদের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে এদেরকে অপরাধী চিন্তা করেই প্রশাসনকে এগোতে হবে। প্রশাসনের এই কাজকে সর্বতোভাবে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষকে সমর্থন জুগাতে হবে। সাচনা বাজারটি সবধরনের সমস্যামুক্ত হয়ে হৃত গৌরব ফিরে পাক এই আমাদের প্রত্যাশা।

