বিশেষ প্রতিনিধি
তাহিরপুরে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় থাকা ৭ জনকে অমুক্তিযোদ্ধা দাবি করছেন মুক্তিযোদ্ধারা। এদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেবার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন তারা। দীর্ঘদিন তালিকায় থাকা এই ৭ জন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন নি- ট্রেনিং দেন নি দাবি করায় পুরো উপজেলায় এই নিয়ে আলোচনা ঝড় বইছে।
তাহিরপুরের শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষরে মুক্তিযোদ্ধামন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এই বিষয়ে লিখিত দেওয়া হয়েছে। রোববার সর্বস্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যানারে তাহিরপুর উপজেলা সদরে অমুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেবার দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।
আন্দোলনকারী মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, উপজেলার বড়ছড়া গ্রামের জলিল খান, পৈলনপুরের তাজুল ইসলাম, ব্রাহ্মণগাঁওয়ের আব্দুল মন্নাছ, নোয়ানগরের আব্দুল মজিদ, মানিগাঁওয়ের আব্দুল কাদির, নাগরপুরের মতিউর রহমান, প-ুবের প্রয়াত আব্দুল মান্নান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন নি। তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় কোথাও ট্রেনিং নিতেও কেউ দেখেন নি। অথচ মুক্তিযোদ্ধা সেজে ভাতা উত্তোলন করছেন তারা। এবারের যাচাই-বাছাইয়ে এদের নাম বাদ দেবার দাবিতে তাই রাজপথে নেমেছেন তারা।
তাহিরপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক সভাপতি রৌজ আলী বললেন, যে ৭ জনকে আমরা অমুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তালিকা থেকে বাদ দেবার কথা বলছি, তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এমন কথা তাহিরপুরের একজন মুক্তিযোদ্ধাও বলবেন না। তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে কেউ দেখেন নি। কিংবা কোথাও টেনিং নিতেও কেউ দেখেন নি। জলিল খান নামের একজনের ভাই জালাল খান ট্রেনিংয়ে অংশ নিয়েছিল। অথচ জালাল খানের বদলে জলিল খান না প্রতারণার মাধ্যমে সেজেছেন মুক্তিযোদ্ধা। ২০০৭ সাল থেকে এই পর্যন্ত তাহিরপুরের সকল মুক্তিযোদ্ধা ৪ বার মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন স্থানে এই ৭ জনকে তালিকা থেকে বাদ দেবার জন্য আবেদন করেছে। এবার যাচাই-বাছাইকালে তাদেরকে বাদ দেবার জন্য মুক্তিযোদ্ধামন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধামন্ত্রী এই আবেদনের কপি তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট পাঠিয়েছেন। গত ৩০ জানুয়ারি আড়াই থেকে তিন’শ মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করেছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধাও বলেন নি তারা যোদ্ধা। তিনবার করে জিজ্ঞাস করে হয়েছে, কেউ তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধে দেখেছেন বলেন নি।
তাহিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি খসরু ওয়াহিদ চৌধুরী বললেন, ৩০ জানুয়ারি তাহিরপুর গণমিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রথম সকলকে তাদের বিষয়ে কোন বক্তব্য থাকলে বলতে অনুরোধ জানান। এক পর্যায়ে তিনি বলেছেন, তারা কোন না কোনভাবে মুক্তিযুদ্ধে যুক্ত থাকলে ‘হ্যাঁ’ বলুন। তিনবার বলার পরও কেউ হ্যাঁ বলে নি। সম্পৃক্ত না থাকলে না বলুন বলার পর সবাই ‘না’ বলেছে।
অভিযুক্তদের একজন তাজুল ইসলাম বললেন, আমি যে মুক্তিযোদ্ধা, তার স্বপক্ষে সকল কাগজ জমা দিয়েছি বলেই জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আমার নাম গেজেটভূক্ত করেছিল। ২০১৩ সাল থেকে আমি ভাতা পাচ্ছি। প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুজ জহুর, টেকেরঘাট সাব সেক্টরের চিকিৎসক প্রয়াত ডা. হারিছ উদ্দিন এঁরা সকলেই জানতেন আমি মেডিকেল টিমে ছিলাম। সশস্ত্র যুদ্ধেও অংশ নিয়েছি। যারা আমাকে অমুক্তিযোদ্ধা বলছে, তারা শত্রুুতাবশত বলছে।
অন্য ৬ জনের বিষয়ে একইভাবে বলা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, অন্য ৬ জনের নামও লাল মুক্তিবার্তায় আছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ বললেন, বিষয়টি নিয়ে বার বারই যাচাই-বাছাই কাজ করা হচ্ছে। ৭ জনের কারো কারো নাম জামুকা’র গেজেটেও আছে। অথচ. তারা যে যুদ্ধ করেছেন এমন যুৎসই প্রমাণ এখনো তারা দেখাতে পারছেন না। কারো কারো পক্ষে এমন স্বাক্ষ্য হাজির করা হয়েছে, যে যুদ্ধকালীন সময়ে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় সীমানায় রাতের বেলা দেখা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে একজন আরেকজনকে বলেছেন, তিনি ট্রেনিংয়ে আছেন, এর বেশি যুদ্ধক্ষেত্রে দেখা হয়েছে বা মুক্তিযোদ্ধার ক্যাম্পে বা কোন অপারেশনে দেখা হয়েছে এমন তথ্য কেউ দিতে পারেন নি। অথচ. জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের গেজেটে কারো কারো নাম রয়েছে।


