বিশেষ প্রতিনিধি
সিলেটের জঙ্গী আস্তানা ‘আতিয়া মহল’ ঘিরে অভিযান চলাকালে শনিবার রাতে দুই দফা বোমা বিস্ফোরণের সময় নিহত ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের খাদিম শাহ্ ও তাঁর পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছে পুলিশ। পুলিশ সোমবার দুপুর পর্যন্ত খাদিম শাহ্’র মরদেহ হস্তান্তর না করায় তাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের মো. ইসরাইল আলী ও মাতা জাহানারা বেগম’র ৮ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে খাদিম শাহ্ ২য়। ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত দোলারবাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেছেন খাদিম শাহ্। পরে পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে দোলারবাজারে নিজেদের পারিবারিক আজিম শাহ্ ডেকোরেটার্সে কিছুদিন কাজ করেন। ৩ বছর ধরে খাদিম শাহ্ সিলেটের হক সুপার মার্কেটের ২য় তলায় ব্যবসা করছেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম আজিম শাহ্ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট। সিলেটের জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহল’ ঘিরে অভিযান চলাকালে গ্রেনেড বিস্ফোরণে পুলিশসহ খাদিম শাহ্র নিহত হওয়া এবং তাঁর লাশ পুলিশ এখনো হস্তান্তর না করায় তাকে ঘিরে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। এলাকাবাসী অবশ্য দাবি করেছেন, খাদিম শাহ্ জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত হবার বিষয়ে কোন তথ্য তাদের কাছে নেই। এলাকাবাসী তাকে একজন ব্যবসায়ী হিসাবেই চিনেন। স্থানীয় লোকজন মনে করছেন খাদিম শাহ্ জঙ্গিদের সাথে যুক্ত নয় এটিই বিশ্বাস করতে চান তারা। তবে পুলিশ এই বিষয়ে তদন্ত করুক এটাও চান তারা।
ছাতক উপজেলা যুব লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন বলেন,‘ খাদিম শাহ’র পরিবার ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে পরিচিত। এলাকাতেও ব্যবসা করছে তারা। গত তিন চার বছর যাবৎ সিলেটে ব্যবসা করছে। আমাদের জানা মতে খাদিম শাহ ভদ্র ছেলে। গত শনিবার সিলেটের আসমা বিল্ডিংয়ের পাশে জঙ্গি বোমা হামলাতে সে নিহত হয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে খাদিম শাহ হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানাই।
খাদিম শাহের ছোট ভাই নাদিম শাহ বলেন,‘ বড় ভাই গত তিন বছর যাবৎ সিলেটে ব্যবসা করইন। লাইটিংয়ের ব্যবসা। বিভিন্ন জায়গায় প্রোগ্রামে যাইন। আমার ভাই প্রোগ্রাম থেকে আওয়ার পথে জঙ্গি হামলায় নিহত হইছইন। আমি জঙ্গিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
সুনামগঞ্জের পুুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন,‘ খাদিম শাহ্সহ যারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নয়, অথচ শিববাড়ি এলাকায় গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’


