স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী, জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, দিরাই ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা সুজাত আহমেদ চৌধুরীর ৯ম মৃত্যু বার্ষিকী আজ সোমবার। আজীবন সংগ্রামী এই নেতা ২০০৭ সালের ২৮ মার্চ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিবারের উদ্যোগে আজ সোমবার বাদ জোহর তাড়লের নিজ বাড়ীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সুজাত চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনায় তাঁর ভাতিজা সাংবাদিক কাউসার চৌধুরী সকলের নিকট দোয়া কামনা করেছেন।
সুজাত আহমেদ চেীধুরী ১৯৪৭ সালের ৭ই জানুয়ারি দিরাই উপজেলার তাড়ল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মামদ চৌধুরী ছিলেন একজন সমাজসেবী। মায়ের নাম আলতাজান চৌধুরী। নিজ গ্রাম তাড়ল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু হয় সুজাত আহমেদ চৌধুরীর ।মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে। ১৯৬৭ সালে সুনামগঞ্জ কলেজে ভর্তি হন। সেই সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের পতাকা কাধে তুলে নেন। ঝাঁপিয়ে পড়েন ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন। ১৯৬৯ সালের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা হিসাবে সুজাত আহমেদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধু মুক্তি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে কাজ করেন আওয়ামীগের পক্ষে। ১৯৭১ সালের ৩ই মার্চ সুনামগঞ্জে তিনি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করেন স্বাধীন বাংলার পতাকা। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং স্বাধীনতা উওর ¯œাতক ডিগ্রি লাভ করেন। স্বাধীনতার পর সুজাত আহমেদ চৌধুরী জাতির জনকের নেতৃত্বে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। সুজাত আহমেদ চেীধুরী সৎ ও নিষ্টাবান রাজনীতিবীদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সামাজিক ক্ষেত্রে ও তার রয়েছে যথেষ্ঠ অবদান রয়েছে। প্রতিষ্ঠা করেছেন দিরাই ডিগ্রী কলেজ ও তাড়ল উচ্চ বিদ্যালয়। জীবনে কখনও অন্যায়ের কাছে মাতানত করেননি। তার লেখা ১১টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রাজনীতির তিন যোগ, বিশ্ব বেং, বিবিধ প্রসঙ্গ, শতাব্দীর প্রথম যুদ্ধ এবং হৃদয়ে বাংলাদেশ ।


