সহযোগী দৈনিক সুনামকণ্ঠের একটি সংবাদ থেকে জানা গেল, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে রবিবার থেকে লক্কর-ঝক্কর বাস প্রত্যাহার করে অপেক্ষাকৃত ভাল মানের বাস চালু করা হবে। বিরতিহীন কর্তৃক রাস্তায় যাত্রী উঠানো-নামানোর অপপ্রয়াসটিও বন্ধ করা হবে। ওই সড়কে চলাচলকারী বাস মালিক সমিতি সমূহ বৃহস্পতিবার এক সভার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। মালিক শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে আমরা এই ধরনের একটি সিদ্ধান্ত বিলম্বে হলেও গ্রহণ করার জন্য আমরা অভিনন্দন জানাই। একই সাথে কামনা করি তাদের নিজেদের নেয়া সিদ্ধান্তটি যাতে যথাযথভাবে বাস্তবে প্রয়োগ হয়। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের বাস সার্ভিসকে বাংলাদেশের সবচাইতে খারাপ সার্ভিস হিসাবে অভিহিত করে থাকেন যাত্রী সাধারণ। যারা দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে বাসে ভ্রমণ করেছেন তাদের অভিমত, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে যেসব নি¤œমানের বাস রয়েছে সেগুলো সড়কে বের করতেও লজ্জা পান ওইসব এলাকার মালিক শ্রমিকরা। সুনামগঞ্জের যাত্রীরা সবসময় এক ধরনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবহন ব্যবসায়ীদের দ্বারা দিনের পর দিন ভোগান্তির শিকার হয়ে আসলেও চরম সহিষ্ণু মনোভাবের কারণে তারা কোন ধরনের বাদ বিসম্বাদে জড়াতে অপছন্দ করেন। কিন্তু মনের ক্ষোভ ও বেদনা ঠিকই তাদের ভিতরকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। রবিবার থেকে বিরতিহীন সার্ভিসের সেবার মান বাড়ানোর মাধ্যমে এই ক্ষত কতটুকু শুকায় সেটি দেখার জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকলাম।
একসময় অজুহাত দাঁড় করানো হতো, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কটি ভাল না হওয়ায় এবং এই রাস্তার সেতুগুলো পুরানো ও সংকীর্ণ হওয়ায় ভাল বাস সার্ভিস নামানো যায় না। বর্তমান সরকার অবিশ্বাস্যরকম দ্রুততায় রাস্তার প্রায় সবগুলো সেতু নতুন ও প্রশস্ত করে নির্মাণ করে দিয়েছেন। রাস্তার সংস্কারও হয়েছে। এখন কোনভাবেই এই রাস্তাকে মানহীন বলা যাবে না। রাস্তার উন্নয়ন ঘটেছে প্রায় দুই বছর। কিন্তু বাস সার্ভিসের উন্নয়ন ঘটেনি কিঞ্চিৎমাত্র। তাহলে আগে তারা রাস্তার যে অজুহাত দাঁড় করাতেন সেটি যে নিতান্তই একধরনের ধান্দাবাজি ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মূল কথা হলো অতি ব্যবসায়ীসুলভ মনোভাবের কারণে মালিক পক্ষ সেবার মানোন্নয়ন করেননি। একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মানহীন সড়ক সেবা গ্রহণে যাত্রীদের বাধ্য করেছেন।
সড়কসেবা দেখভালের দায়িত্ব যাদের উপর সেই বিআরটিএ এবং ট্রাফিক পুলিশ এসব অনিয়ম দেখেও না দেখার ভান করে থেকেছেন। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক দুইটি অভিযানের মাধ্যমে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পরিবহন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের কারণে গতি হারিয়ে ফেলে। অন্যদিকে ভাড়া বাড়ানোর সময় পরিবহন ব্যবসায়ীরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি কখনও। উপযুক্ত ভাড়া নিয়ে উপযুক্ত সেবা না দেওয়া বোধ করি বাংলাদেশে শুধু সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কেই সম্ভব ছিল। তবুও আমাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন বলতে হবে এই কারণে যে, শেষতক পরিবহন ব্যবসায়ীরা যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ বিধানে কিছুটা দয়াপরবশ হয়েছেন। আমরা তাই অতীতের যাবতীয় দুর্ভোগ ভুলে সামনের দিকে তাকাতে চাই। সুনামগঞ্জ-সিলেট দেড় ঘণ্টার ভ্রমণটি আমরা চাই আরামপ্রদ, নির্ঝঞ্ঝাট এবং নিরাপদ। সিটের অতিরিক্ত যাত্রী ধারণ করা হবে না, বাসের উপর মালামাল দিয়ে ঠাসা হবে না, বাসের ভিতরে গাদাগাদি করে যাত্রী বহন করা হবে না, বাসের জানালার কাচ ভাঙ্গা থাকবে না, আসনগুলো অন্তত একজন যাত্রী কোনমতে বসতে পারেন এমন হবে, এরকম প্রত্যাশার বাস্তবায়ন দেখে আমরা রবিবার থেকে এই সড়কে চলাচল করতে চাই। পরিবহন ব্যবসায়ী শ্রমিকরা আমাদের এই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলে দুই হাত তুলে তাদের সমৃদ্ধির জন্য আমরা প্রার্থনা করব।

