সুরমা নদীতে বিষ দিয়ে মাছ শিকার

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় সুরমা নদীতে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে আসছেন একশ্রেণী অসাধু মাছ শিকারী। নদীতে ¯্রােতের গতিবেগ কমে আসার সাথে সাথে বিভিন্ন স্থানে নদীর তীরে বিষ প্রয়োগ করতে শুরু করে এই অসাধু চক্র। বিষ প্রয়োগে শিকার হওয়া মাছ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। নদীতে বিষ প্রয়োগ বন্ধের দাবি করেছেন প্রকৃত মাছ শিকারীদের।
একাধিক মাছ শিকারী জানান, প্রতি বছর সুরমা নদীতে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করা হয়। বিগত সময়ে নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করে আসছিলো যে চক্র সেই চক্রের লোকজন এবারও বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে আসছেন। এই বিষ প্রয়োগ চক্রের লোকজন আরও সক্রিয় হয়েছেন এবার। বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে এই বিষ তারা ক্রয় করেন। পরে রাতের অগ্রভাগে অথবা রাতের শেষ ভাগে নদীর কিনারে নির্দিষ্ট স্থানে বিষ প্রয়োগ করেন। কিছু সময় পর এই বিষের তীব্র দুর্গন্ধের অসহ্য যন্ত্রণায় ছোট বড় চিংড়ি মাছসহ নানা প্রজাতির মাছ লাফিয়ে উঠে শুকনায়। পরে এসব মাছ তারাই নদীর কিনার থেকে কুড়িয়ে তোলেন। পরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন এই মাছ। বিষ প্রয়োগের ক্রিয়া শুরু হতে কিছু সময় পার হওয়ায় এই চক্রের লোকজনকে কেউ সহজে ধরতে পারেননি।
সদর উপজেলার আমবাড়ি ও ব্রাহ্মণগাঁও এলাকায় সুরমা নদীতে, বিরামপুর, নয়া ব্রাহ্মণগাঁও এলাকায়, ধারারগাঁও, রহমতপুর, নবীনগর, ইব্রাহীমপুর, পুরান লক্ষণশ্রী, টুকেরগাঁও, হবতপুর, জয়নগর প্রভৃতি এলাকায় অসাধু শিকারীরা সুরমা নদীর পানিতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করে চলেছেন। এদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি প্রকৃত মৎস্যজীবীদের।
শহরের একাধিক কীটনাশক ব্যবসায়ী জানান, তাদের কাছ থেকে অনেকে কীটনাশক কিনে নেন। তারাতো এই বিষ বিক্রি করেন জমিতে পোকা মাকড় নিধনের জন্য। কিন্তু এক শ্রেণীর লোক এটা নদীতে প্রয়োগ করে মাছ শিকার করে আসছেন।
শহরের কীটনাশক ব্যবসায়ী রমজান মিয়া বলেন, প্রতিদিন কীটনাশক ওষুধের বোতল অনেকে কিনে নেন। কীটনাশক সাধারণত: জমিতে প্রয়োগ করা হয়। এদের অনেকে এই বিষ প্রয়োগ করে নদীতে মাছ শিকার করেন। এই মাছ আবার সবাই খাওয়ার জন্য কিনে নেন। এটা কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত জানি না। এটার প্রতিকার প্রয়োজন।
ধারারগাঁও গ্রামের আবু তাহের বলেন, এবারও বিভিন্ন স্থানে বিষ প্রয়োগ করে অসাধু চক্রের লোকজন মাছ শিকার করে চলেছেন। এভাবে মাছ শিকার বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্র্র্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেয়া উচিৎ।
মইনপুরের সুজন মিয়া বলেন, গত পরশু যখন নবীনগর ও ধারারগাঁও এলাকায় সুরমা নদীর পানিতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করেছিল। তখন আমরা অপরিচিত তিনজনকে দৌঁড়াইয়া ধরতে পারিনি।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার উত্তর আরপিনগরের সুবেল মিয়া বলেন, শুকনা মওসুম আসলে নদীতে পানি ¯্রােতের গতিবেগ কমে আসে। এই সময় অসাধু মাছ শিকারীরা নদীতে বিষ প্রয়োগ করেন। কিছুক্ষণ পর বিষের তীব্র দুর্গন্ধে নদীর কিনারে ভেসে উঠে মাছ। চিংড়ি মাছ শুকনায় লাফিয়ে উঠে। এসময় যারা বিষ প্রয়োগ করেন তারাই আবার সাধু সেজে নদীর কিনার থেকে মাছ কুড়িয়ে নেন।
সুনামগঞ্জের ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি আলাউর রহমান বলেন, সুরমা নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের প্রবণতা বছর বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে সুরমা নদীর চর এলাকায় একাধিক স্থানে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করে অসাধু মাছ শিকারীরা। মাছ শিকারের পর তারাই আবার নদীর তীর থেকে মাছ কুড়িয়ে নেন। প্রকৃত বিষ প্রয়োগকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি আমাদের।