সুরাইয়া-বিবিআনা প্রকল্পে ধস

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে সুরাইয়া-বিবিআনা প্রকল্পের টেংলাখালি। ফলে ৩০ গ্রামের কৃষকরা হাওরের ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
এলাকাবাসি জানান, উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সুরাইয়া-বিবিআনা প্রকল্পের রৌয়াইল এলাকার টেংরাখালি নামক স্থানে হঠাৎ করে গত কয়েকদিন ধরে কুশিয়ারা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবারও কিছু স্থানের মাটি ধসে পড়েছে। গতবছর এই প্রকল্প বেড়িবাঁধের আওতায় কাজ করা হলেও এবছর এটি ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের আওতায় আনা হয়নি।
এদিকে অব্যাহত ভাঙনে এলাকার কৃষকরা ফসল নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে রানীগঞ্জের চাতল ও মমিনা হাওরের ফসল তলিয়ে যাবে। এই দুই হাওরে রানীগঞ্জ, পাইলগাঁও ইউনিয়ন ও জগন্নাথপুরের পাশ্ববর্তী দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের একাংশের প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ ফসল আবাদ করেছেন।
ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয়রা জগন্নাথপুরের ইউএনও এবং পাউবোর নিকট লিখিতভাবে আবেদন করেছেন।
রৌয়াইল গ্রামের কৃষক বাচ্ছা মিয়া বলেন, চাতল ও মমিনা হাওরে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রৌয়াইল, আলমপুর, মেঘারকান্দি, কামড়াখাই, হিলালপুর, পাইলগাঁওয়ের জালালপুরসহ প্রায় ৩০ গ্রামের লোকজন
বোরো ফসল চাষাবাদ করেছেন। টেংলাখালি প্রকল্পটি ভেঙে গেলে তলিয়ে যাবে হাওরের ফসল । তাই দ্রুত ভাঙন স্থানে সংস্কার করে কৃষককে বাঁচাতে তিনি দাবি করেছেন।
স্থানীয় ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রৌয়াইল গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল হোসেন জানান, রানীগঞ্জের আওতাধীন সুরাইয়া বিবিআনা প্রকল্পের টেংরাখালি নামক স্থানে গত কয়েকদিন ধরে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে। গতবছর এখানে বেড়িবাঁধের প্রকল্প হিসেবে কাজ হয়েছে। এবার বাঁধের আওতায় আনা হয়নি। ফলে ঝুঁকিমুখে পড়েছে চাতল ও মমিনা হাওরের ফসল। তিনি বলেন,রানীগঞ্জ, পাইলগাঁও ও দিরাইয়ের কুলঞ্জ এলাকার প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ ওই দুই হাওরের আবাদ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মেরামতের জন্য আমরা গত ২২ ফেব্রুয়ারি লিখিতভাবে আবেদন করেছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, লিখিত আবেদন পেয়েছি তবে এখনও তদন্ত করা হয়নি।
জগন্নাথপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব।