বিশেষ প্রতিনিধি
অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এবং স্লোপ কম হওয়ায় শাল্লা উপজেলার তিনটি হাওরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাঁধ শুক্রবার দিন এবং রাতের বৃষ্টিতে দেবে গেছে, কোথাও কোথাও ফাটলও ধরেছে। সুনামগঞ্জের দিরাই, শাল্লা ও কিশোরগঞ্জের ইটনা ও নেত্রকোণার খালিয়াজুরি উপজেলার কৃষকরা একারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বেশি। জেলার অন্য কিছু হাওররক্ষা বাঁধও বৃষ্টিতে ধসেছে এবং ফাটল ধরেছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
বরাম হাওর, ভা-া বিল ও ছায়ার হাওরের এই বাঁধগুলোর একপাশে বড় গর্ত এবং আরেক পাশে দাঁড়াইন নদী এবং ইটনা অংশে ছায়ার হাওর রক্ষা বাঁধ সুরমা নদী’র কূল ঘেষে থাকায় দুশ্চিন্তা বেশি কৃষকদের।
এলাকাবাসী বলেছেন, ধসে যাওয়া বা ফাটল ধরা বাঁধের দ্রুত সংস্কার না করলে বিপদের আশংকা রয়েছে।
শাল্লা’র হবিবপুর গ্রামের কৃষক মনোরঞ্জন দাস বলেন, দিরাই-শাল্লা, কিশোরগঞ্জের ইটনা ও নেত্রকোণার খালিয়াজুরি উপজেলা নিয়ে ছায়ার হাওরের অবস্থান। ডুমরা খেওয়াঘাটের পাশ দিয়ে এই হাওরের ৮৮, ৮৯ ও ৯০ নম্বর প্রকল্পের বাঁধের কাজ হচ্ছে। এই তিনটি প্রকল্পের বাঁধের মাটি কমপেকশন কম হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বাঁধ দেবে গেছে।
ঠিক একইভাবে ছায়ার হাওরের দক্ষিণ পশ্চিম কোণের ১১১ ও ১১৭ নম্বর প্রকল্পের বাঁধে ফাটল ধরেছে। এই বাঁধটি কিশোরগঞ্জের ইটনা ও শাল্লা উপজেলার মধ্যবর্তী সুরমা নদীর পাড় ঘেষে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলামিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ছায়ার হাওরের ৯০ নম্বর প্রকল্পের বাঁধে ধসের খবর পেয়েছেন তারা। এই বাঁধে দ্রুত কাজ করানোর জন্যও সংশ্লিষ্টদের বলে দেওয়া হয়েছে।
আমাদের দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি আশিক মিয়া জানিয়েছেন, শুক্রবারের বৃষ্টিপাতে উপজেলার কাংলার হাওরে ২৯ ও ৩১ নং পিআইসির আওতাধীন বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর বিভাগ-১) সাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে কোনো কোনো বাঁধ দেবেছে এবং ফাটলও ধরেছে। আমরা এসব বাঁধে পিআইসিদের কাজেও লাগিয়ে দিয়েছি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পওর বিভাগ-২’এর নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম জানালেন, হাওররক্ষা বাঁধগুলোর মাটির কমপেকশন নিয়ম মোতাবেক হয়নি। এ কারণে বৃষ্টিতে কোনো কোনো বাঁধ দেবেছে। ফাটলও ধরেছে। আমরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)’র লোকজনকে বলেছি বাঁধে কাজ করতে এবং ফসল ঘরে না ওঠা পর্যন্ত বাঁধের কাজে থাকতে।


