বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাটবাজারগুলো আদালতের মামলা মোকদ্দমার কবলমুক্ত হয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসায় এবার সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৮০ লাখ টাকা। এক বছর আগে এই হাট-বাজারগুলো থেকে সরকারের রাজস্ব প্রাপ্তির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ লাখ ২৯ হাজার ৫৪১ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাজারগুলো থেকে রাজস্ব আয় বেড়েছে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা। এই হিসাব থেকে বুঝা যায়, বাজারগুলো নিয়ে এতোদিন কী ধরনের মচ্ছোব ঘটে চলেছিল। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের একটি সংবাদ থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়। বিশ্বম্ভরপুরের ৭ টি বড় বাজার তথাকথিত ওয়াকফ্ স্টেটের নামে সত্ত্ব দাবি করে আদালতে মামলা ও পরবর্তীতে বাজারের ইজারা কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশের সুযোগ নিয়ে একটি চিহ্নিত মহল দীর্ঘদিন এই বাজারগুলোর রাজস্ব লুটেপুটে খাচ্ছিল। অবশেষে তথাকথিত ওয়াকফ্ স্টেটের সত্ত্ব দাবির ভেলকিবাজি আদালতের নির্দেশে অসাড় প্রমাণিত হয়ে বাজারগুলো আবারও সরকারের নিয়ন্ত্রণে এলো। সরকারের রাজস্বআহরণকারী নানা খাতগুলোকে এভাবে মামলা-মোকদ্দমায় জড়িত রেখে ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধার ও সরকারের রাজস্ব প্রাপ্তির পথ বন্ধ রাখা আমাদের দেশে একটি প্রচলিত সংস্কৃতি। হাটবাজার, বিল-জলাশয় প্রভৃতি ক্ষেত্রে এ ধরনের মোকদ্দমা প্রবণতা প্রচুর দেখা যায়। সরকারি কর্তৃপক্ষের সময়োচিত সঠিক তদবিরের অভাবে এইসব মামলা নিষ্পত্তি হতেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়, অনেক সময়ে সরকারের অনুকূলে রায় পেতেও বাধা তৈরি করে। স্বার্থাণে¦ষী মহলের অন্যায় আবদারের কাছে নতি স্বীকার করেন আমাদের প্রশাসনেরই কিছু অসৎ ব্যক্তি। তারা যথাসময়ে আদালতে সঠিক তথ্য ও দলিলপত্র উপস্থাপন করেন না। এইসব দুষ্টচক্র ভেদ করে বিশ্বম্ভরপুরের বৃহৎ রাজস্ব আহরণকারী ৭টি বাজার মুক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ, যারা মামলা পরিচর্যার নানা দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, তাঁদেরকে ধন্যবাদ জানাতে হয়। ধন্যবাদ এ কারণে আরও বেশি জানাতে হয় যে, আদালতের রায় পাওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বাজারগুলোকে ইজারা প্রক্রিয়ায় নিয়ে এসে ৮০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ে সক্ষম হয়েছেন। বিশ্বম্ভরপুরের এই উদাহরণটি জেলার সর্বত্র অনুসরণ করা উচিৎ। জেলার এমন বাজার কিংবা জলমহাল অথবা সরকারি যেকোন উৎসকে অযাচিত হস্তক্ষেপ মুক্ত করার লক্ষে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা প্রশাসনযন্ত্রের প্রতি অনুরোধ জানাই।
সরকারের সক্ষমতা রাজস্বনির্ভর। সরকার দেশে যেসব উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়ন করেন সেখানে এই রাজস্ব হলো প্রধান অবলম্বন। বাংলাদেশের অবস্থা এক সময় এমন ছিল যখন দেশের যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকা-ের জন্য বিদেশি ঋণ ও সাহয্যের মুখাপেক্ষী থাকতে হব। সেই কঠিন সময় অতিক্রম করে এসেছি আমরা। পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব দ্বারা। অর্থাৎ সরকারের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এই জায়গায় এইসব কারসাজি বন্ধ করা গেলে সরকারের সক্ষমতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াত তা বলে বুঝানোর নয়। সরকারের বর্তমান সক্ষমতা অনেক বেড়ে যেত যাবতীয় রাজস্ব কারচুপি আটকানো গেলে। সুশাসন ও স্বচ্ছ সরকার ব্যবস্থার অন্যতম উপাদান হলো যাবতীয় দুর্নীতিগ্রস্ততাকে হটিয়ে বিদায় করা। সুশাসন ও স্বচ্ছতার জায়গায় বিশ্বম্ভরপুরের বাজারগুলো পুনরুদ্ধার হতে পারে একটি দৃষ্টান্ত।

