সেই ভাঙা সেতুই এখন ভরসা/ পারাপারে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেই

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলা সদর বাজারের মধ্যবর্তী ট্রলারঘাট সংলগ্ন শয়তানখালী খালের উপর সেতুটি দেবে যাওয়ায় পথচারী ও যান চলাচল বন্ধ করে সেতুর অদুরে উত্তরপাশে একটি বাঁশের চাটাই দিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করেছিল প্রশাসন। কিন্তু শনিবার ভোরে পানির তোড়ে বাঁশের চাটাই ভেসে যায়। ফলে দেবে যাওয়া সেতু দিয়েই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। ফলে পথচারীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অর্ধশত বছরের অধিক পুরনো এ সেতু ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেবে যেতে শুরু করে। তখনই সেতুটির ওপর দিয়ে পথচারী ও যান চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। গত বছর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সেতুটি আরও দেবে গেলে প্রশাসন আবারও বেড়া দিয়ে তা স্থায়ীভাবে তা বন্ধ করে সেতুর দক্ষিণ দিকে বাঁশের চাটাই দিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করে দেয়। সেতুর টেন্ডার প্রক্রিয়া ও ঠিকাদার নিয়োগে দীর্ঘসূত্রীতা এবং স্থায়ীত্বশীল বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে না তোলার কারণে সৃষ্টি হয় সীমাহীন দুর্ভোগের। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে শয়তানখালী খালে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির তোড়ে চাটাই ভেসে যায়। ফলে এ সেতুই কান্দাপাড়া, মহদিপুর, মেউহারী, ঘুলুয়া, রাজাপুর, হলিদাকান্দা, আবুয়ারচর, মহিষের বাতান, নোয়াবন্দ, কামলাবাজ, ফাতেমানগর, লংকাপাথারিয়া, ভাটকপুরসহ ১৫/২০টি গ্রামের মানুষের সদর বাজারে চলাচলালের একমাত্র ভরসা। এ সেতুর কারণে পশ্চিমবাজারে ব্যবসা বাণিজ্যে ভাটা পড়েছে।
পথচারী কান্দাপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম মিয়া বলেন, যে কোনো সময় সেতুটি ধসে যেতে পারে। প্রয়োজনের তাগিদেই ভাঙা সেতু পার হলাম। আর কত দুর্ভোগ পোহালে এ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
মধ্যবাজারের ব্যবসায়ী লিটন চন্দ্র সরকার বলেন, এমন দুর্ভোগ আর মেনে নিতে পারছি না। প্রাণহানী ঘটলেই বোধহয় কর্তৃপক্ষ সজাগ হবে।
উপজেলা গেইটের কম্পিউটার ব্যবসায়ী সাজিদুল হক বলেন, শয়তানখালী খাল পার হয়ে প্রতিদিন দোকানে যেতে হয়। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এখন বাধ্য হয়ে ভাঙা সেতুই ব্যবহার করতে হচ্ছে।
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন মুঠোফোন রিসিভি না করায় বক্তব্য জানা যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে। দুয়েকদিনের মধ্যে তা বাস্তবায়ন হবে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, ইতোমধ্যে এ সেতুর নির্মাণ কাজের জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই ঠিকাদারের সাথে চুক্তি সম্পাদিত হবে। পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।