সড়ক নয় যেন মরণফাঁদ

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার ইসলামপুর-বনগাঁও সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে ওঠেছে। দুই উপজেলার শতাধিক মানুষের চলাচলের এই সড়কটি এলাকাবাসীর জন্য দুর্ভোগের সড়কে পরিণত হয়েছে। জেলা সদর থেকে সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়ন এবং দোয়ারাবাজারের লক্ষীপুর ও বাংলাবাজার ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের মানুষের একমাত্র সড়ক পথ এটি।
এলাকাবাসীর দাবি ইসলামপুর গ্রামের শেষ প্রান্ত থেকে বনগাঁও বাজার পর্যন্ত সড়কে গত প্রায় ২০ বছর ধরেই কোন সংস্কার কাজ হয় নি। সাম্প্রতিক বন্যায় এই সড়কের আরো বেহাল অবস্থা হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ঢালাই ভেঙে রড বেরিয়ে পড়েছে। বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলকাটা-বনগাঁও সড়ক দিয়ে সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর, রঙ্গারচর এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ও বাংলাবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের লাখো মানুষ জেলা শহরে আসা-যাওয়া করেন। এই সড়কে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের সংস্কার কাজ না হওয়ায় ঢালাই ভেঙে বিভিন্ন স্থানের রড বেরিয়ে পড়েছে। বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে যানবাহন পড়ে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়তই। শনিবার দুপুরে একটি সিএনজি ইসলামপুর এলাকায় সড়কের গর্তে পড়ে যাওয়ায় যাত্রীরাও আহত হন। ভাঙাচোরা সড়কে এমন দুর্ভোগ দীর্ঘদিন যাবত। সড়কের মেরামত কাজ না হওয়ায় এখন যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার জানান, দীর্ঘদিন আগে ইসলামপুর-বনগাঁও সড়কের ঢালাইয়ের কাজ হয়েছিল। এরপর আর হয়নি। প্রায় ৫ বছর আগে সড়কের গর্তে মাটি ভরাট করে মেরামত কাজ করা হয়েছিল। পরে আবার ভাঙা শুরু হয়। কোনো সময়ই এই সড়কে ভাল কাজ হয়নি।
নৈগাং গ্রামের তফাজ্জল হোসেন জানান, ইসলামপুর-বনগাঁও সড়কে বর্তমানে গাড়ি চালাতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। সড়কের বড় বড় গর্তে গাড়ির চাকা পড়েলে আর উঠানো যায় না। আশপাশের মানুষ ডেকে টেনে হিঁচড়ে তোলতে হয় যানবাহন। সড়ক সংস্কারের দাবি আমাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন মিয়া, মন্নান মিয়া, আমির হোসেন, কামাল মিয়াসহ অনেকে জানান, ইসলামপুর-বনগাঁও সড়ক যুগ যুগ ধরে অবহেলিত। অথচ এই সড়ক দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের জেলা শহরে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক।
সুনামগঞ্জ উত্তর সুরমা উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুর রব বলেন, মঙ্গলকাটা গরুর বাজার থেকে শুরু করে ইসলামপুর পর্যন্ত গত বছর কার্পেটিং করা হয়েছিল। বছরের ৬ মাস ঝড়-বৃষ্টি থাকে। এই কারণে সড়ক টিকবে না। একবার আরসিসি ঢালাইয়ের সড়ক করলে চলে ১৫-২০ বছর। ওই স্থানে কার্পেটিং করে সড়ক নির্মাণ করা সঠিক নয়। মঙ্গলকাটা-বনগাঁও পুরো সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ হয়েছিল ২০০১ সালের দিকে। এরপর শুধুমাত্র গর্ত মেরামত করে চলছে মানুষ ও যানবাহন।
রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই বলেন, মঙ্গলকাটা-ইসলামপুর সড়কের কার্পেটিং করা হয়েছে। এই কার্পেটিং সড়ক বেশি দিন থাকবে না। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ভাল কাজ হওয়া উচিৎ। এই সড়কের ইসলামপুর গ্রাম থেকে বনগাঁও পর্যন্ত অংশে পাঁচ বছর আগে বড় বড় গর্তে মাটি দিয়ে মেরামত কাজ হয়েছিল। কয়েক দফা বন্যায় এসব মাটি ধুয়ে মুছে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে।
এলজিইডি’র সদর উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়া হোসেন বললেন, সুনামগঞ্জ-বনগাঁও সড়কের জন্য ১০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব দুই মাস আগে এলজিইডির সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।