সড়ক বিনষ্টকারী পুকুরগুলোকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিন

বিভিন্ন মৎস্যখামারীদের পুকুরে চাষ করা মাছ দ্বারা সরকারি সড়কের কিনারা ভেঙ্গে ফেলার উপর গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। বলাবাহুল্য ব্যক্তিগত এসব পুকুরের পৃথক কোন পার নেই। সরকারি রাস্তাকেই পুকুরের পার হিসাবে ব্যবহার করছেন খামার মালিকরা। পুকুরে এখন যেসব মাছ চাষ করা হয়ে থাকে তাদের মধ্যে বিশেষ করে কার্প জাতীয় মাছ মাটি খেতে ওস্তাদ। পাঙাস মাছও নাকি ব্যাপকভাবে মাটি খায়। এসব মাছ মাটি খেতে খেতে সড়কের কিনারা ভেঙ্গে ফেলেছে। অনেক জায়গায় মূল সড়কের পাকা অংশের নীচে তৈরি হয়েছে গর্ত। জেলার মদনপুর-দিরাই, দোয়ারাবাজার-বাংলাবাজার, পাথারিয়া-ভাটিপাড়া, জামালগঞ্জ-শাহপুর, মদনপুর-দিরাই, গচিয়া-কাইমা, টুকদিরাই-জগদল, দিরাই-সরমঙ্গল, দিরাই-শ্যামারচর সড়কের পাশে এরকম বহু মৎস্যখামার রয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ আছে। মাছ চাষের কারণে যদি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক নষ্ট হয়ে পড়ে তাহলে লাভের চাইতে লোকসান অনেক বেশি। সড়ককে পার বানিয়ে পুকুর করার কোন বিধান রয়েছে কিনা তা আমাদের জানা নেই। এরকমটি করা নিশ্চয়ই আইনগতভাবেও অসংগত। কিন্তু এই অসংগত ও বিপুল ক্ষতিকারক কাজটিই নির্বিকারভাবে বহু বছর যাবৎ করে যাচ্ছে কিছু অবিবেচক মৎস্যখামারী। আর এরকম একটি ক্ষতিকারক বিষয়কে উপেক্ষা করে চলেছে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো।  এই ধরনের অবস্থা অনভিপ্রেত।
মাছের খামার তৈরির বিষয়ে সরকার নানা ধরনের প্রনোদনা ও উৎসাহ দিয়ে আসছেন। দেশে ব্যক্তিগত পর্যায়ে খামারে মাছ চাষের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। এতে করে দেশের পুষ্টি চাহিদা মিটানো অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে। এই যুগান্তকারী পরিবর্তনের রূপকার আমাদের সংগ্রামী মৎস্যখামারীরা এজন্য নিশ্চয়ই ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত। কিন্তু একটি ভাল কাজ করতে যেয়ে এর চাইতেও বড় আকারের আরেকটি ক্ষতিকারক কাজ যারা করছেন তাদেরকে আমরা কোন অবস্থাতেই ভাল খামারী বলব না। পুকুর যখন নির্মাণ করতে পেরেছেন তখন সেজন্য পৃথক পার নির্মাণ করাও নিশ্চয়ই তাঁদের জন্য দুঃসাধ্য নয়। এটি করলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জনপথগুলো এভাবে হুমকির মুখে পড়ত না।
পুকুরের কারণে জেলার যেসব সড়ক হুমকির মুখে রয়েছে সেসব সড়কের দেখভালকারী প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং এলজিইডির প্রতি আমাদের অনুরোধ, আপনারা একটু গা ঝাড়া দিয়ে অনুরূপ ক্ষতিকারক পুকুরের মালিকদের সাথে আলোচনা করে সড়ক বিনষ্টকারী কার্যক্রমকে প্রতিহত করুন। এসব পুকুরে মাছ চাষ করে যে আয় হয়ে থাকে সড়ক ভাঙ্গার কারণে বিশাল ক্ষতি সেই তুলনায় অনেক বেশি। এরকম বিশাল ক্ষতিকে মেনে নেয়া কখনও উচিৎ নয়। সুতরাং এ বিষয়ে যত দ্রুত প্রতিকারমূলক কাজ শুরু করা যায় ততই মঙ্গল।