সড়ক যখন পুকুর পার

আশিক মিয়া ও আবু হানিফ চৌধুরী
পুকুরে চাষ করা মাছ গিলছে কোটি টাকার সড়ক। এমন অবস্থা সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায়ই। গ্রামীণ সড়ক থেকে উপজেলা সড়কসহ জেলার অনেক সড়কের স্লোপের মাটি ইতিমধ্যে চাষের মাছ গিলে খাওয়ার কারণে হুমকির মুখেই যান চলাচল করছে। এক বছর আগে এই নিয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় কথা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সুনামগঞ্জ-মদনপুর-দিরাই সড়ক, দোয়ারাবাজার-বাংলাবাজার সড়ক, পাথারিয়া-ভাটিপাড়া সড়ক, জামালগঞ্জ শাহ্পুর সড়ক, মদনপুর-দিরাই সড়ক থেকে গচিয়া-কাইমা সড়ক, টুক দিরাই-জগদল সড়ক, দিরাই-সরমঙ্গল সড়ক, দিরাই- শ্যামারচর সড়কের কল্যাণী এলাকাসহ জেলার বহু সড়ক গিলে খাচ্ছে ব্যক্তি উদ্যোগে করা চাষের পুকুরের গ্রাসকার্প, পাঙাসসহ বিভিন্ন মাছেরা।
জামামগঞ্জের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অফিসের একজন কার্য সহকারী বললেন,‘আমি একটি সড়ক নিয়ে কথা বলেছিলেন, আমাকে উল্টো শাসিয়ে গেছে প্রভাবশালী মাছের খামারীরা।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বছর খানেক আগে জেলা উন্নয়ন সভায় দিরাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। পরে অন্যান্য উপজেলা পরিষদ    চেয়ারম্যানরাও বলেছেন সকল উপজেলায়ই এই ধরনের সমস্যা রয়েছে। চাষের মাছ সড়কের মাটি খেয়ে ফেলায় হয় সড়ক ভেঙেছে না হয় হুমকিতে আছে। কোটি টাকার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ঐ সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা পুকুর মালিকদের যেন জানিয়ে দেন- কোনভাবেই সড়ককে পুকুরের পাড় হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। পুকুর মালিকরা নিজ উদ্যোগে তাদের পুকুরের পাড় তৈরি করে সড়ক রক্ষা করবেন। কিন্তু এই বিষয়ে পরবর্তীতে আর কোন উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক বললেন,‘এই বিষয়ে জেলা উন্নয়ন সভায় কথা হয়েছে। কিন্তু কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান বলেন,‘আগামী সমন্বয় সভায় এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো। অনেক স্থানেই ব্যক্তিগত পুকুরের পাড় হিসাবে সড়ককে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাঙাস, গ্রাসকার্প মাছ মাটি খেতে খেতে সড়কের স্লোপের মাটি খেয়ে ফেলেছে। অনেক স্থানে সড়ক ভেঙেছে বা ভাঙার উপক্রমও হয়েছে। এসব বিষয় ঠেকাতে উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদকে ভূমিকা রাখতে হবে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী’র মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় এই বিষয়ে কথা বলা যায়নি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান বলেন,‘সরকারি সড়ককে ব্যক্তিগত পুকুরের পাড় হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। এই বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’