হাওরের ক্ষতি প্রভাব ফেলবে না জাতীয় উৎপাদনে

সু.খবর ডেস্ক
অকাল বন্যায় হাওরাঞ্চলে বোরোসহ মৌসুমি ফসল পানিতে ভেসে গেলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছে সরকার। সরকারের ভাষ্য, হাওরে যে পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কোনো সমস্যা নয়। সরকারের ভান্ডারে যথেষ্ট খাদ্যসামগ্রী রয়েছে। এছাড়া যে পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হাওরে হয়েছে তা জাতীয় পর্যায়ের উৎপাদিত ফসলের তুলনায় খুবই কম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে পানি নেমে প¬াবিত হয়েছে হাওরাঞ্চলের ছয় জেলা। এতে হাওরে মোট এক লাখ ৪১ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এটি শুধু শাকসবজি ও বোরো ধানের হিসেবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুছ বলেন, ‘হাওরে যে ফসল ক্ষতি হয়েছে তা টেকল করা কোনো সমস্যা নয়। সেখানে টোটাল ফসলের ক্ষতি হয়েছে এক লাখ ৪১ হেক্টর জমির। এই জমিতে যে ফসল হতো তা আমরা অন্যভাবে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি এবং এটা সম্ভব।’
এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের দেশে অন্যান্য জায়গায় এবার ফসল ভালো ফলবে। বিশেষ করে আউসের ধান বৃষ্টির কারণে অনেক ভালো ফলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আমরা হাওরাঞ্চলের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। পুরো হাওরাঞ্চলে সাড়ে ১২শ কেজি আউসের বীজ বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে। এই বীজগুলো বেশ উন্নতমানের। অল্প পানিতে এই বীজ লাগালেই ভালো ফলন হবে। এছাড়া সবজিও আমরা সরবরাহ করছি। আশা করছি যে ক্ষতি ফসলের হয়েছে সেটি আমরা পুষিয়ে ওঠতে পারবো। ’
মোহাম্মদ আব্দুছ বলেন, ‘সারাদেশে আমাদের বোরো ধান উৎপাদন হয় এক কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন। আর সবমিলিয়ে সারাদেশে ধান উৎপাদন হয় সাড়ে তিন কোটি মেট্রিক টন। আমাদের প্রতি বছরই খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। সুতরাং এসব মোকাবেলায় আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।’
জানতে চাইলে কৃষি সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘চালের হিসাবে হাওরে মোট ক্ষতির পরিমাণ ছয় লাখ টন। আমরা এসব ক্ষতি খুব শিগগিরই পুষিয়ে ওঠবো আশা করছি।  হাওরাঞ্চলে আমরা কৃষকদের প্রণোদনা দেব। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘সরকার হাওরবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে হাওরাঞ্চলের কৃষিঋণের সুদ মওকুফ এবং ঋণ আদায় বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।’ হাওরের কৃষকদের পরবর্তী ফসলের মৌসুমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
হাওরে ধান নষ্ট হওয়ার ফলে দেশের মোট ধানের উৎপাদন কমবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় অন্য এলাকায় বোরোর উৎপাদন বাড়বে। তা ছাড়া হাওরের সংকট মোকাবিলার সামর্থ্য ও সর্বাত্মক চেষ্টা সরকারের রয়েছে।’
খাদ্য মজুদ পর্যাপ্ত
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে সরকারের গুদামে এখন খাদ্যশস্য মজুদ আছে ৫ দশমিক ৪৬ লাখ মে. টন। এর মধ্যে চাল ৩ দশমিক ৫৯ লাখ মে, টন আর গম ১ দশমিক ৮৭ লাখ মে. টন। এছাড়া বন্দরের ভাসমান অবস্থায় শূন্য দশমিক ৪৬ লাখ মে. টন থাদ্যশষ্য রয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে জানান, টানা তিন মাস দেশে কোনো দুর্যোগ থাকলে তা মোকাবেলা বা সারাদেশের মানুষের খাদ্যশস্য সরবরাহ করার মতো মজুদ সরকারের গুদামে রয়েছে। এনিয়ে শঙ্কার কিছু নেই।
খাদ্য সচিব মো. কায়কোবাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। এনিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আমরা নতুন করে উত্তরাঞ্চলে আরও ১৫ লাখ মে. টন চাল সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছি। সুতরাং আমাদের যা মজুদ আছে তা দিয়ে যেকোনো পরিস্থিতি আমরা মোকাবেলা করতে সক্ষম।’
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খাদ্যে আমরা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা চাল এখন বিদেশে রপ্তানিও করছি। পোল্যান্ড কিছুদিন আগেও আমাদের কাছ থেকে চাল কেনার প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা তাদের প্রস্তাবে এখনো সাড়া দেইনি। আমরা পরিস্থিতি পর্বেক্ষণ করছি। এমন অবস্থায় আমরা চাল রপ্তানি করবো কি না সেটা নিয়ে ভাবছি।’