স্টাফ রিপোর্টার
হাওরে থাকা পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলতে মাইকিং চলছে। জেলার বিশ্বম্ভপুর উপজেলা কৃষি অফিস গত দুইদিন ধরে শনির হাওর, খরচার হাওর সহ বিভিন্ন হাওরে নৌকাযোগে মাইকিং করছে। আবহাওয়ার খারাপ পূর্বাভাস থাকায় জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলে কর্তনের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। হাওরের সব ধান কাটার আগে পর্যন্ত সতর্কতামূলক মাইকিং অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নয়ন মিয়া।
তিনি বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী আগামী ২২ এপ্রিলের পর থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এসময় কালবৈশাখী ঝড় সহ শিলাবৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢল নেমে হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এমন অবস্থায় জমির ৮০ শতাংশ পেকে গেলে ধান কেটে ফেলতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। যেন পানি আসার পূর্বেই কৃষকরা ধান ঘরে তুলতে পারেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় এ বছর বোরো ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমি চাষাবাদ হয়েছে। যা লক্ষমাত্রার চেয়ে ৪৯৫ হেক্টর বেশি। সম্ভাব্য ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ লাখ ৫৩ হাজার মে. টন।
এদিকে বিশ্বম্ভপুরের পাশাপাশি শাল্লা উপজেলায়ও চলছে মাইকিং। এছাড়াও জেলার অন্যান্য উপজেলায় মসজিদের মাইকের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে এই সতর্কবার্তা পৌঁছানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম।
তিনি বলেন, আগামী ২৩, ২৪ এপ্রিল আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে ভারী বৃষ্টিপাতের কথা। সেই কথা বিবেচনা করে আমরা দ্রুত ধান কাটার নির্দেশনা দিচ্ছি। ঢালাওভাবে মাইকিং করে কৃষকরা যেন আতঙ্কিত হয়ে না পড়েন সে জন্য মসজিদের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছাতেও বলা হয়েছে। টানা কয়েকদিনের রোদে কৃষকরা স্বস্তিতে ধান কাটছেন। শ্রমিকদের পাশাপাশি প্রায় এক হাজার সচল হারভেস্টার হাওরে ধান কাটছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার ৩৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। যেভাবে ধান কাটা হচ্ছে তাতে ২৩ তারিখের আগে জেলার ৭০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। শাল্লা, ধর্মপাশা, মধ্যনগর এসব উপজেলার শতভাগ ধান কর্তন হয়ে যাবে।


