আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
আমরার স্যার আর ম্যাডাম আইজকা আইছইন না, ইতার লাগি আমরার ইস্কুল বন্ধ, ইস্কুলের দরজা জানালা খোলা অইছেনা, আমরা ইস্কুল গিয়া ঘুইরা আইছি। কথাগুলো অপকটে বলছিলো প্রত্যন্ত হাওর পাড়ের বিঞ্চুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর এক শিক্ষার্থী ।
না আমার ইস্কুল আইজকা পড়া অইছেনা,ইস্কুল বন্ধ। স্যার আর ম্যাডাম নাইযে, ইতার লাগি বন্ধ একই ভাবে ৩য় শ্রেণীতে পড়–য়া আরেক শিক্ষার্থী । কথাগুলো শুধু তাদেরই নয়, কথাগুলো বিঞ্চুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই দিন উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীর।
গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সরেজমিনে জামালগঞ্জের হাওর পাড়ের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম বিঞ্চুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সবগুলি রুমই তালাবদ্ধ। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকার বিঞ্চুপুর নেই, আর সহকারী শিক্ষিকাও নেই। বিদ্যালয়ের একজন প্যারা শিক্ষক আছেন তিনিও আজ বিদ্যালয়ে আসেননি। সকাল থেকেই প্রাক প্রাথমিক, প্রথম শ্রেণী, আর দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষিকা না পেয়ে ঘুরে গেছেন। দুপুরের দিকে একই ভাবে তৃতীয়, চতুর্থ আর পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থীরাও এসে রুম তালাবদ্ধ পেয়ে ঘুরে গেছেন। অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র তালুকদার প্রায়ই বিদ্যালয়ের কাজে উপজেলা সদর সহ স্কুলের বাইরে থাকেন, ম্যাডামকে একা একা ক্লাস নিতে হয়। একজন শিক্ষকের পক্ষে সবগুলি ক্লাস নেওয়াও সম্ভব নয়। আজ উপজেলা সদরে অফিসের কাজে গেছেন।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সূত্রে জানা যায়, বিঞ্চুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫২ ইংরেজীতে প্রতিষ্ঠা হয়। বিদ্যালয়টিতে ১৯৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, বিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষক শিক্ষিকা ছাড়াও ১ জন প্যারা শিক্ষক রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
বিঞ্চুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য চিত্ত রঞ্জন সরকার বলেন, হেড স্যার আজকে ছিলেন না, আর কদিন ধরেই ম্যাডাম স্কুলে নাই। স্যাররা অনিয়মিত হওয়ায় বাচ্চাদের পড়ালেখা বিঘœ হচ্ছে, ক্ষতি হচ্ছে আমাদের বাচ্চাদের। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি দিপাল সরকার বলেন, আমাদের কথা কেউ শুনে না,আমরা স্কুল লইয়া কি কষ্টে যে আছি বইলা বুঝান যাইবো না,আজকে কোন স্যার নাই, স্কুলডা বন্ধ, বাচ্চারা আইসা আইসা ঘুইরা যাইতাছে, ম্যাডাম নাই, হেড স্যার অফিসের কামে জামালগঞ্জ গেছেন। প্রায়ই এরকম অয় আমরার ইস্কুলে।
বিঞ্চুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুপ্রতা সূত্রধর বলেন,আমি আমার পরিবার সহ বিঞ্চুপুর গ্রামেই থাকি, এখানে থেকেই নিয়মিত স্কুল করি। হেড স্যার অধিকাংশ সময়ই অফিসের কাজে বাইরে থাকেন। অনেক সময় আমি একাই স্কুলের সমস্ত ক্লাস নেই।
বিঞ্চুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন তালুকদার বলেন,আমি জামালগঞ্জে অফিসের কাজে এসেছি। প্রথমে স্কুল বন্ধ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্কুল বন্ধ ছিলো স্বীকার করে বলেন, আজকে স্কুলে আমি নাই, ম্যাডামও নাই, তাই বন্ধ ছিলো।
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: নূরুল আলম ভুইয়া বলেন, বিঞ্চুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামালগঞ্জ এসেছিলেন। হাওর পাড়ের বিদ্যালয়টি কেন তালাবদ্ধ ছিলো এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে ব্যাখ্যা তলব করা হবে।


