হোসেন তওফিক চৌধুরী
জলবায়ু পরিবর্তনের জের হিসেবেই হয়তো আষাঢ় মাস আসার আগেই চৈত্র মাসে শুরু হয়েছে আষাঢ়ী বর্ষণ। গত ক’দিন থেকে কখনো থেমে থেমে আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভাটী বাংলার সর্বত্র নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাওর পানিতে সয়লাব হতে চলেছে। ফলে সবখানেই মানুষ চলতি বোর ফসল নিয়ে আতংকিত হয়ে পড়েছেন। অজানা আশংকায় মানুষ এখন দিশেহারা। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের আশংকা বাড়ছে। ফসল প্রাপ্তির বুকভরা প্রত্যাশা মিলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে নদী ভরাট হয়ে গেছে, পানি ধারন ক্ষমতা মারাত্মক ভাবে হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ঠিকমত হয়নি। ঠিকাদার বা পিআইসির লোকেরা দায়সারা গোছের কাজ করেছে। ফলে নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করছে সহজেই। হাওর সমূহেও পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। এতে ফসল বিনষ্টের আশংকা সর্বত্র। ইতোমধ্যেই জেলার বেশ কয়েকটি হাওরে পানিতে ফসল তলিয়ে গেছে। হাওর রক্ষা বাঁধ হুমকির সম্মুখীন। এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয় হাওর এখন ঝুঁকিপূর্ণ। হাওরবাসী এখন ফসল রক্ষার জন্য স্বেচ্ছায় স্বপ্রণোদিত হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে হাওর রক্ষায় প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ঠিক এই বিপদের মুহূর্তে পিআইসি বা ঠিকাদারদের পাওয়া যাচ্ছে না। তারা লা-পাত্তা হয়ে পড়েছে, গা ঢাকা দিয়েছে। বর্তমানে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা অভূতপূর্ব।
পূর্বে কখনো চৈত্রমাসে এ ধরনের সর্বনাশা বৃষ্টিপাত হয়নি বা পাহাড়িয়া ঢল নামেনি। এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে ধরে নিয়েই কর্তৃপক্ষের সতর্ক থাকা উচিত ছিল। বাঁধের কাজ সঠিক সময়ে হলে হয়তো ফসল রক্ষা করা সম্ভব হতো। এজন্য সকল মহল থেকে দাবিও উত্থিত হয় কিন্তু কার কথা কে শুনে? সকলেই গরলভেল। অরণ্যরোদন। যা আশংকা করা হয়েছিল তাই হতে চলেছে। এক ফসল এলাকার মানুষের ফসলহানির সর্বনাশে একটি মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এখনো সময় একেবারে বয়ে যায়নি। এখনো যদি আন্তরিকতা নিয়ে হাওর রক্ষায় এগিয়ে যাওয়া যায় তাহলে হয়তো কিছুটা হলেও সর্বনাশের মারাত্মক ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কর্তৃপক্ষ যদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সক্রিয় হয়ে এবং মানুষের সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে হয়তো সর্বনাশের পরিধি কমতে পারে।
লেখক: আইনজীবী-কলামিষ্ট


