বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জবাসীর কাছে পরিচিত গরিবের ডাক্তার গৌতম রায়কে পদোন্নতি দিয়ে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যার (করোনা ইউনিট) হাসপাতালের উপপরিচালক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সংবাদ দেখে হাজারো মানুষ তাকে অনুপ্রেরণা যোগালেন। সকলেই লিখেছেন, ‘করোনাযুদ্ধে জয়ী হবেন এই নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক’। সুনামগঞ্জের বাসিন্দাদের ফেইসবুক আইডিতে শুক্রবার ও শনিবার ডা. গৌতমকে উৎসাহ দেবার বিষয়টি ভাইরাল হয়।
সুনামগঞ্জ সদর ও আশপাশের উপজেলার মানুষের প্রিয় ডা. গৌতম রায় (গৌতম ডাক্তার) ১৯৯১ সালের ১১ ডিসেম্বর সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। ২০১৫ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা হিসাবে পদোন্নতি পান। দীর্ঘদিন তিনি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং আশপাশের উপজেলা সদরে কর্মরত ছিলেন। এই সময়ে মানুষের প্রতি মমতা, বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের চিকিৎসা প্রদানে তাঁর আন্তরিকতায় সকলের কাছেই প্রশংসিত হন এই চিকিৎসক।
সুনামগঞ্জ শহরের মুক্তারপাড়ার মৃত বীরন্দ্রে রায় ও সাধনা রায়ের বড় ছেলে গৌতম রায়। নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ডা. গৌতমের বাড়ি’র গেট রোগীদের জন্য সার্বক্ষণিত খোলা থাকে। সুনামগঞ্জ শহরে অবস্থান করলে ডা. গৌতম যেখানেই অবস্থান করেন স্টেথোস্কোপসহ কিছু চিকিৎসা যন্ত্র তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগেই রাখেন। সাধারণেরা এই বিষয়টি জানেন। এজন্য অনেক সময় সুবিধা বঞ্চিত মানুষেরা পথে রিক্সা আটকিয়ে ডাক্তার গৌতমের চিকিৎসা নিয়েছেন এমন উদাহরণ অনেক রয়েছে। হাসপাতালে নিজ কক্ষে, ব্যক্তিগত চেম্বারে ডা. গৌতম বসলে অসংখ্য রোগীর ভিড় সামলাতে হয় তাকে। তিনি বেশিরভাগ রোগীই ফি’ ছাড়া দেখেন এটিও জানেন সকলে। শহরবাসী জানেন রাত ২ টায় কেউ অসুস্থ্য হলে গৌতম ডাক্তার বাড়ি থাকলে ওই রোগী দেখানো যাবেই। এসব মানবিক আচরণের জন্য প্রান্তিক এই শহরে জনপ্রিয় গৌতম ডাক্তার।
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথমে একজন গণমাধ্যম কর্মী টাইম লাইনে লিখেন,‘আমাদের গৌতম দা। সুনামগঞ্জের মানুষ ডা. গৌতম হিসাবে চিনেন। সুবিধা বঞ্চিত মানুষের প্রিয় গৌতম ডাক্তার জামালপুরের সিভিল সার্জন ছিলেন। সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিশ^স্থ এই মানুষটিকে করোনাকালে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা হাসপাতালের উপপরিচালক হিসাবে পদায়ন করা হয়েছে। দাদা যোগদান করেছেন। নাায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ইতিমধ্যে করোনা ইউনিট ঘোষণা করা হয়েছে। বিকালে কথা বলছিলাম দাদার সঙ্গে। বললেন সকলকে দোয়া আশীর্বাদ করতে বলবে ভাই। হাসপাতালের ভেতরেই একটি ডরমিটরিতে দাদার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওখান থেকেই এই সময়ের যুদ্ধে সামনের সারির যোদ্ধার কাজ করছেন এই মানবিক মানুষটি। আপনি এই যুদ্ধে জয়ী হবেন দাদা।’
এই স্ট্যাটাস এক পর্যায়ে ভাইরাল হয়। হাজারো মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্যে অনুপ্রেরণা যোগান ডা. গৌতমকে।
সংসদ সদস্য, প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, কলেজ শিক্ষক, গণমাধ্যম কর্মী, আইনজীবী, কৃষক, প্রবাসী, ইমাম, পুরোহীত, গৃহিনী, শ্রমজীবী নানা শ্রেণি পেশার মানুষ তাঁকে সাহস ও অনুপ্রেরণা যোগান।
কেউ লিখেছেন, ‘মহান সৃষ্টিকর্তা দাদাকে যুদ্ধে জয়ী হবার শক্তি দিন। কেউ কেউ লিখেছেন সবাই পালিয়ে গেলেও উনি পালাবেন না, কর্তব্যে অটুট। মানুষের দোয়া ও ভালবাসায় দাদা জয়ী হবেনই। একজন লিখেছেন তুমি নিভৃতে মানুষের উপকার করেছো। তোমার জন্য সুনামগঞ্জ কাঁদে দোয়া ও আশীর্বাদ করে। দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা লিখেছেন, সাধারণ মানুষের দোয়া ও ভালবাসায় সিক্ত এই মহান চিকিৎসকের যুদ্ধ জয়ের প্রার্থনা করি। একজন সংসদ সদস্য লিখেছেন, এই দুর্যোগে উনাকে সিলেটে পদায়ন করলে ভাল হতো। একজন গণমাধ্যম কর্মী লিখেছেন সিলেট বিভাগে তিনটি পদ খালি থাকার পরও এরকম একজন মানুষকে সিলেটে আনতে পারলেন না রাজনৈতিক নেতৃত্ব।
প্রসঙ্গত. ২০১৭ সাল থেকে ৩০.০৩.২০২০ পর্যন্ত জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. গৌতম রায়কে পদোন্নতি দিয়ে ৩১ মার্চ করোনাজোন নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা করোনা ইউনিট হাসপাতালের উপপরিচালক করা হয়। তিনি ইতিমধ্যে যোগদান করেছেন।
- শাল্লায় উধাও করোনা মোকাবিলা কমিটির ১৩ কর্মকর্তা
- ৩ দিন না খেয়ে থাকা পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছালেন বিজেন ব্যানার্জী


