হালির হাওরে অর্ধেকও হয়নি বাঁধের কাজ

আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
হালির হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে পাউবো ও তাদের নিয়োজিত ঠিকাদারা প্রকল্পের বরাদ্দ লুটপাটের পায়তারা করছেন করছেন বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় কৃষকরা। হাওর পাড়ের কৃষকরা বাঁধ নিয়ে শংকায় রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১৫ দিনেরও বেশী অতিবাহিত হলেও এখনো অনেক বাঁধের কাজ অর্ধেকই শেষ হয়নি।
হালির হাওরের বাঁধ নির্মাণকারী ঠিকাদাররা কোন কাজ করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। যেটুকু কাজ করা হয়েছে তা শুধু পুরাতন বাঁধের উপর চার থেকে ছয় ইঞ্চি পরিমানে মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই পানির সাথে বাঁধের মাটিও চলে যাবে। আবার কোন কোন আফর বাঁধে এখনো ঠিকাদাররা কাজই শুরু করেন নি।
জামালগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষার বিভিন্ন বাঁধ ও ক্লোজারের কাজ পরির্দশন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাওর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনকালে বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার, হালির হাওরের কৃষক জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের লম্বাবাঁক গ্রামের আব্দুল খালেক তালুকদার, সবর আলী তালুকদার, সাহেদ আলী তালুকদারসহ পাউবোর উপজেলার কমিটির সদস্য ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুধবার সকাল থেকে দিনব্যাপি হালির হাওরের বদরপুর থেকে ঘনিয়ার কাড়া, ঘনিয়ার কাড়া থেকে রাঙ্গিয়া, রাঙ্গিয়া থেকে হাওরিয়া আলী পুর, আছানপুর,     
কালীবাড়ীর ক্লোজার, ডাকাতখালী, সুইচ্ছা,সহ বিভিন্ন বেরি বাঁধ, আফর বাঁধ ও ক্লোজার পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি দেখতে পান, পিআইসিদের কাজ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও এখনও অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি কোথাও কোথাও। পিআইসিরা দেরিতে কাজ শুরু করার ফলে এখনো কাজ চলমান। হালির হাওরের ঠিকাদারদের কাজের মান অত্যন্ত নি¤œমানের। আবার কোন কোন ঠিকাদার এখনও কাজই শুরু হয়নি। আছানপুরে গ্রামের নিকট ঠিকাদার এখনও আফর বাঁধের কাজই শুরু করেন নি।
জানা যায়, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা বার বার ঠিকাদারকে কাজ শুরু করার কথা বললেও ঠিকাদার কোন ধরনের কর্ণপাতই করছেন না। বর্তমানে হালির হাওরের কয়েকটি বাঁধে এখনো ৩০ ভাগ কাজও হয়নি। তবে চলতি মাসেই কাজ শেষ করবেন বলেও তারা দাবি করেন পাউবোর দায়িত্বরত কর্মকর্তার।
হালির হাওরের পাউবোর দায়িত্ব কর্মকর্তাও বাঁধ নির্মাণ নিয়ে ঠিকাদারের গাফিলতি ও কাজ শুরু না করার কথা স্বীকার করেছেন। এদিকে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতেও জামালগঞ্জের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি বোরো মৌসুমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, হাইব্রিড উচ্চ ফলনশীল জাতের ৫৯২৫ মে. টন, উফসী জাতীয় ফসল ৯১৪১ মে. টন, স্থানীয় জাতের ফসল ৮৮১ মে:টন সহ অন্যান্য ফসল প্রায় ১ লাখ মে:টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩ শত কোটি টাকা।
ডাকাতখালী বাঁধের সাব ঠিকাদার তাহিরপুরের জয়নাল মিয়া বলেন,‘ আমাকে ঠিকাদার বলেছে ১ ফুট উঁচু করে মাটি ফেলার জন্য। তাই আমি কমবেশী করে কাজ করছি। তবে আমি ভুল করেছি, আর করর না।
পাউবোর হালির হাওরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারি প্রকৌশলী (এসও) খন্দকার আলী রেজা হাওরের বাঁধের কাজ শেষ না হবার কথা স্বীকার করে বলেন,‘ হালির হাওরের সবচেয়ে ঝুকিপুর্ণ বাঁধ কালীবাড়ী। এই বাঁধটি বিপদমুক্ত করতে আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করছি। তবে হালির হাওরের ঠিকাদারদের গাফিলতি আছে। আমি বার বার তাগিদ দেবার পরও এখনো পর্যন্ত দু-এক জায়গায় কাজ শুরুই হয় নি।  
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী বলেন,‘হাওর রক্ষা বাঁধের ব্যাপারে প্রথম থেকেই আমি পিআইসি ও পাউবোকে চাপে রাখা হয়েছে। বাঁধ পরিদর্শন করে দেখেছি ঠিকাদারদের কাজে অনেক সমস্যা আছে। ঠিকাদারকে ডাকা হয়েছে, কাজ না করলে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। ’