স্টাফ রিপোর্টার
নির্মিতব্য ২৫০ শয্যার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল উদ্বোধন নিয়ে জোরালো আলোচনা হয়েছে জেলা সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির সভায়। রোববার বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এই আলোচনা হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হায়দার চৌধুরী লিটন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ সভায় উপস্থিত সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশের কাছে জানতে চান, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামোর জন্য জেলার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। জেলাবাসীর জন্য আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও তা কেন উদ্বোধন করা হচ্ছে না। কেন বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে নতুন ভবন উদ্বোধনের কাজ।
সভায় উপস্থিত সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ জানান, অবকাঠামো কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। রান্না ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এছাড়া ভবন নির্মাণ করা হয়েছে অনেক নিচু করে। ১০ ফুটের স্থলে ৮ ফুট উঁচু করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নিচু করে ভবন নির্মাণ করার ফলে সিলিং ফ্যান মানুষের মাথায় লেগে যায়। ফ্যানের স্ট্যান্ড কেটে লাগানো হলেও ভুল করে হাত উপরে উঠালে হাত লেগে যাবে। বিষয়টি ভবন নির্মাণ ও তদারককারী প্রতিষ্ঠান গণপূর্তকে চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, সদর হাসপাতালের ভবন নির্মাণ কাজ শুরুর সময় তিনি সুনামগঞ্জের দায়িত্বে ছিলেন না। যিনি ভবন নির্মাণ সময়কালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ছিলেন তিনি ভাল বলতে পারবেন।
সভায় উপস্থিত জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক মো. এমরান হোসেন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শফিউল আলমসহ সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাগণ দেয়ালে ফ্যান লাগানোর জন্য পরামর্শ ও ভবন নিচু করে নির্মাণ করার বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিকে বলা হবে বলে জানান।
সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ বলেন,‘ সদর হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ফ্যানগুলো অনেক নিচু করে লাগানো হয়েছে । ’
জানা যায়, ১০০ শয্যার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করতে হাসপাতালের ৭তলা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে। প্রথম কার্যাদেশে ৩২ কোটি টাকা বরাদ্দে ৭ তলা ভবনের কাজ থাকলেও দ্বিতীয় মেয়াদে আরও এক তলা যোগ হওয়ায় ৮ কোটি টাকা বেড়ে ৪০ কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দ হয়।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দ্বিতীয় দফায় আরও একতলা বর্ধিত করায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আবারও মেয়াদ পেয়েছিল গণপূর্ত বিভাগ। কিন্তু আরও চার মাস পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে না। কবে নতুন ভবন উদ্বোধন করা হবে তাও এখনও নিশ্চিত হয়নি।
- জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে রানার্সআপ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়
- নতুন প্রজন্মকে একাত্তরের ইতিহাস জানাতে হবে -কাজী মুকুল


