হিলে আর ফাইন্যে নিলো ধান অখন ঢেউয়ে নিতাছে বাড়ীঘর

আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
‘হিলে আর ফাইন্যে নিলোগি ধান,আর অখন ঢেউয়ে নিতাছেগি আমরার বাড়ী ঘর। আমরার কপালই খারাপ,না অইলেকি আমরার ইলাখান দুরদসা অইতো। আমরার অকন এই গেরাম হেই গেরাম ঘুইরা ঘুইরা ফেনা (কচুরী পনা) আইন্যা বাড়ী ঘর ঠিক করন লাগতাছে।’
মনের কষ্টে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের হরিনাকান্দি গ্রামের কৃষক সফর আলী। শুধু সফর আলী নয় বেহেলীর ১০-১৫টি গ্রামের হাজারো সফর আলীর মনের কথা এরকম। গেল কৃষি মৌশুমে শিলাবৃষ্টি আর হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন হয়েছে তার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রবল ঢেউয়ে ঘর বাড়ী ব্যাপক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। উপজেলার যে’কটি গ্রামের মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ঘর ছেড়ে অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত সোমবার থেকে জামালগঞ্জের সুরমা নদীতে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।   
বেহেলী ইউপির হরিনাকান্দি, হাওরিয়া আলীপুর, বদরপুর, আছানপুর, হরিপুর, মাহমুদপুর, হিজলা, দুর্গাপুর, নোয়াপাড়া, মদনাকান্দি, গোপালপুর , নিতাইপুর, ইসলামপুর লামা পাড়া, হাওরিয়া আলীপুর উত্তর পাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ঢেউয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফেনারবাক ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলের গ্রামগুলি ইতিমধ্যে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বেহেলী ও ফেনারবাঁক ইউনিয়নের অধিকাংশ সড়ক পানিতে ডুবে গেছে।  ফেনারবাঁকের আলীপুর, রামপুর, জামলাবাজ,কামধারপুর, গজারিয়া, ভুতিয়ারপুর পূর্ব হাটি, শরিফপুর,পশ্চিম ফেনারবাঁক, বেদরপুর, বিজয়নগর, লক্ষীপুরের নতুন হাটি, হঠামারা, নাজিমনগর, হঠামারা, উদয়পুর গ্রামের আংশিক ঘরবাড়ী ইতিমধ্যে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।  গ্রামগুলির অধিকাংশ ঘরবাড়ীর মানুষজন পানিবন্দি রয়েছেন।
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের বেতাল আলীপুর শরীপপুর, কালীবাড়ী,গুলের হাটির নি¤œাংশ সহ মমিনপুর, ঝুনুপুর, ইনছানপুর গ্রামের অধিকাংশ মানুষ পানিবন্দি।  সাচনা-মমিনপুর সড়কের কামলাবাজ ও লম্বাবাঁকের রাস্তাটি ডুবে বর্তমানে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাচনা বাজারের নূরপুর, সুজাতপুর, বাহ্মনগাঁও, পলকপুর, শেরমস্তপুরের একাংশ, কুকড়াপশী গ্রামের মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। বিশেষ করে ভীমখালী ইউনিয়নের উজ্জলপুর গ্রামের কাছে জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ পুরাতন সড়ক ভেঙ্গে ইসলামপুর গ্রাম সহ আরো কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে গেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে জামালগঞ্জে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করছে। এছাড়াও উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। জামালগঞ্জ সুনামগঞ্জ সড়কের উপজেলা সদরের তেলিয়া নতুন পাড়ার মুল সড়কটির উপড় দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘বেহেলী ইউনিয়ন পুরোটাই হাওরে অবস্থিত। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় অধিকাংশ গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢেউয়ের আঘাতে কাঁচা ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পুরো বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে অবগত করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।’
সাচনাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম বলেন,‘সাচনা বাজার ইউনিয়নের বেশকটি প্লাবিত গ্রাম ঘুরেছি, উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। আমরা আজ কালের মধ্যেই স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে র্দুযোগ মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা বলেন,‘উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হবার খবর পাচ্ছি। সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলির মানুষকে সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।