বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ সদর এবং শান্তিগঞ্জে উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ২৩ প্রার্থী। মঙ্গলবার মনোনয়ন জমা দেবার শেষ দিনে এই প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেন। ঘরোয়া বৈঠকসহ নানা ধরণের প্রচারণাও শুরু করেছেন তারা। আগামী ৪ নভেম্বর এই দুই উপজেলার প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাইয়ের শেষ তারিখ, ১১ নভেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীতা প্রত্যাহার এবং ২৮ নভেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি নির্বাচনে না গেলেও এই দুই উপজেলায় ১২ বিএনপি নেতা নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ সদরে জাতীয় পার্টির ৮ প্রার্থী ৮ ইউনিয়নে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা সীতেশ রঞ্জন দাস তালুকদার, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মঈন উল হক এবারও মনোনয়ন দাখিল করেছেন। ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নুরুল হক জাপার মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মোহাম্মদ আলী, হেলাল আহমদ, মজিহুর রহমান, মো. ফয়জুল হক ও মো. ফয়জুনুর ফয়েজ।
কুরবাননগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. শামস উদ্দিন, মনোনয়ন দাখিল করেছেন দলের বিগত নির্বাচনের প্রার্থী মো. কোহিনুর আলম ও স্থানীয় নেতা মো. আফজাল নুর। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দাখিল করেছেন মো. শাহীনুর রহমান শাহীন, মো. আব্দুল বরকত, মো. তাহির আলী, মো. আব্দুর হাসিব কাওছার।
রঙ্গারচার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ, দলীয় নেতা বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদও মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এছাড়াও চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দাখিল করেছেন আকমল হোসেন রনি, মো. মহি উদ্দিন, মো. আব্দুল গফুর, জাপার মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, স্বতন্ত্র মোহাম্মদ নূর উদ্দিন ও বিএনপি নেতা মো. আব্দুল হাই, ।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মিজানুর রহমান। এখানে আওয়ামী লীগের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জাপার মো. আব্দুল মন্নান, স্বতন্ত্র মো. মোশাহিদ আলম মহিম ও মো. ফারুক রশিদ। ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আব্দুল ওয়াদুদ স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন।
কাঠইর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন দলীয় নেতা মো. বুরহান উদ্দিন। মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মো. আব্দুল মতিন ও শামছুল ইসলাম। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দাখিল করেছেন কাজী মো. নুরুল হক নোমান, মো. শিরতাজ আহমদ, আজিজুর রহমান তালুকদার, মো. রফিক উল্লাহ, জিয়াউর রহমান ও জাপার মো. ফারুক মিয়া।
মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা মনির উদ্দিন। মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. আব্দুছ সালামও প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মশরফ উদ্দিন মশির, মো. আব্দুল মমিন, মামুন রশীদ। বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নুরুল হক বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলে নির্বাচনে লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে, জাপার মো. শামীম আহমদ প্রার্থী হয়েছেন।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মুকছুদ আলী, মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মো. আব্দুল কাদির, জাপার রসিদ আহাম্মেদ, স্বতন্ত্র মো. আনোয়ার হোসেন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ।
সুরমা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মো. আব্দুস ছাত্তার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম ও আমির হোসেন রেজা প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া জাপার মো. সিরাজুল ইসলাম আছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ফয়সল আহমদ, মো.নুর হোসেন ও মো. শামছুল আলম।
গৌরারং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ছালমা আক্তার চৌধুরী। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে চম্পা বেগম ও সারুয়ার আহমদও প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া বিএনপি নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান ফুল মিয়া, শহিদুল ইসলাম ও মো. শামছুল হক স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন। মো. শওকত আলী জাপার প্রার্থী হিসাবে লড়বেন। এছাড়া মো. নুরুজ আলী, মো. কামাল হোসেন, আতিকুল রহমান চৌধুরী (সিপন) মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন মিজানুর রহমান জিতু। কিন্তু দলীয় নেতা শাহীনুর রহমান ও আব্দুল্লাহ মিয়া মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
জয়কলস ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মাসুদ মিয়া, মনোনয়ন না পেয়ে প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল বাছিত সুজন, ফরিদুর রহমান ও আব্দুল লতিফ কালা শাহ।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন দলীয় নেতা জগলুল হায়দার, দলের মনোনয়ন না পেয়ে লড়ছেন শ্রমিক নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক।
পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন রাশিকুল ইসলাম। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কোন প্রার্থী নেই। বিএনপির কোন নেতাও স্বতন্ত্র লড়ছেন না।
দরগাপাশায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন, মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মাছুদুল হাসান।
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন দলীয় নেতা রিয়াজুল ইসলাম, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মসফিকুর রহমান। স্থানীয় বিএনপি নেতা ছালেক উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট দেবাংশু শেখর দাশ। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সফিকুল ইসলাম ও শামছুল আলম ভূইয়া। বিএনপি নেতা লুৎফুর রহমান জায়গীরদার খোকন, ও নুর মিয়া স্বতন্ত্র লড়বেন।
পাথারিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন দলীয় নেতা শামছুল ইসলাম রাজা। এখানে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ আমিন স্বতন্ত্র হয়ে লড়বেন।
আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচনে নামা প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বলেছেন, কোন কোন ইউনিয়নে প্রার্থী মনোনয়নে ভুল হওয়ায় তৃণমূলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল বলেছেন, বিএনপি ইউপি নির্বাচনে যায় নি, কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে নিজ দায়িত্বে অংশ নিয়েছেন।


