বিন্দু তালুকদার
আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণ প্রায় শেষ হয়েছে। চলতি মাসেই নতুন হাসপাতালের সকল অবকাঠামো সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করার উদ্যোগ নিবেন বলে জানিয়েছেন জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক।
ডিসেম্বরে হাসপাতালের অবকাঠামো হস্তান্তর করার পর প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পাওয়া গেলে জানুয়ারিতেই কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. ডা. আশুতোষ দাশ।
জানা যায়, ১০০ শয্যার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করতে হাসপাতালের ৭ তলা ভবনের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে।
প্রথম কার্যাদেশে ৩২ কোটি টাকা বরাদ্দে
৭ তলা ভবনের কাজ থাকলেও দ্বিতীয় মেয়াদে আরেক এক তলা যোগ হওয়ায় ৮ কোটি টাকা বেড়ে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দ্বিতীয় দফায় আরও একতলা বর্ধিত করায় চলতি ডিসেম্বর পর্যন্ত আবারও মেয়াদ পেয়েছিল গণপূর্ত বিভাগ।
সদর হাসপাতলের নতুন ভবনে থাকবে সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা। নতুন ৮ তলা ভবনে থাকছে পাশাপাশি দুইটি লিফট। নতুন ২০০ শয্যার অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও ২৫২টি শয্যা করা হয়েছে। নতুন ভবনের ৭ম তলায় ২৮টি কেবিন রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ কেবিন ২০টি ও ৪টি ভিআইপি। ৮ম তলায় রয়েছে ২ টি ভিভিআইপি কেবিন ও কিচেন-ডাইনিং। প্রত্যেকটি কেবিনে ২টি করে শয্যা থাকবে।
নিচ তলায় রয়েছে ৬৩০ কেভির একটি বৈদ্যুতিক
সাবস্টেশন, ৩০০ কেভির একটি আধুনিক জেনারেটর, জরুরি বিভাগ, মেডিসিন বিভাগ, ২টি পর্যবেক্ষণ কক্ষ, প্রতিটি কক্ষে রয়েছে ৫টি শয্যা, রয়েছে নরমাল অপারেশন থিয়েটার, ৬টি শয্যার একটি পোস্ট অপারেশন থিয়েটার, ১টি সিটিস্কেন ও ২টি এক্সরে, অপেক্ষমান কক্ষ, ৩টি পাবলিক টয়লেট।
২য় তলার দক্ষিণে রয়েছে ৮ জন ডাক্তারের কক্ষ, উত্তরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কক্ষ, ল্যাব ও রোগীদের রান্নার ঘর। ৩য় তলার দক্ষিণে রয়েছে চারটি অপারেশন থিয়েটার, একটি কক্ষে ১২টি সিসিইউ শয্যা, একটি কক্ষে ৬টি আইসিইউ শয্যা, ডাক্তার ও সহকারিদের কক্ষ। এই তলার উত্তরে সার্জন, সহকারি সার্জন, সাধারণ চিকিৎসকদের কক্ষ, হাসপাতালের হিসাব শাখা ও বোর্ড রুম রয়েছে।
৪র্থ তলার দক্ষিণে অপারেশন থিয়েটার, ১২ শয্যার একটি পোস্ট অপারেশন থিয়োটার, জন্ম নেয়া শিশু শয্যা ৭টি, ১৬ শয্যার একটি গাইনি কক্ষ, ২টি প্রসূতি শয্যা, এই তলার ২টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৬টি মহিলা শয্যা রয়েছে। ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলায় ডাক্তার, নার্স, দুইটি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৬ টি করে ৭২ টি শয্যা রয়েছে।
ভবনের ৮ম তলায় একটি বৃহৎ সম্মেলন কক্ষ রয়েছে। ভবনের মাঝে একটি ও উত্তর দক্ষিণে আরো একটি করে মোট ৩টি সিঁিড় রয়েছে। ভবনের প্রতি তলার দুইদিকে ৩ টি করে পাবলিক টয়লেট রয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক কক্ষ, ওয়ার্ড, ডাক্তার, নার্সদের জন্য রুম সংলগ্ন টয়লেট রয়েছে।
ভবনের আপদকালীন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য জেনারেটরের পাশাপাশি ১০ কেভির সোলার প্যানেল রয়েছে। ভবনের উপরে ৪৫ হাজার লিটার পানি ধারন ক্ষমতা একটি ট্যাংকি ও নিচে সোয়া ২ লাখ লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা একটি রিজার্ভ ট্যাংকি নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে সদর হাসপাতালের ১০০ শয্যা ভবনে ২৫০ শয্যার চিকিৎসা পরিচালনা, দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ করায় এবং রোগীর চেয়ে ধারণ ক্ষমতা কম হওয়ায় হিমসিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। নতুন ভবনের কাজ সম্পন্ন হলে রোগীর চাহিদা পুরণ ও চিকিৎসা সেবার মান বাড়বে বলে দাবি সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। থাকছে বর্ধিত ভবনের লোকবল পাওয়ার সুযোগ।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডিং কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী কামরুল হাসান ও ব্যবস্থাপক নুর হোসেন জানান, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ভবন নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ প্রায় শেষ। এখন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নসহ টুকটাক কিছু কাজ রয়েছে। যেসব কাজ বাকী রয়েছে সেগুলো কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা শেষ করে ফেলব; এর পরপরই কর্তৃপক্ষের কাছে তা হস্তান্তর করে দেব। ’
সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ বলেন,‘সদর হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ নভেম্বরেই সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছিলেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। ভবনসহ সকল অবকাঠামো দ্রুত হস্তান্তর করতে পারলে আমাদের জন্যে ভাল হয়। নতুন ভবনের বিষয়ে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভবন হস্তান্তরের জন্য চিঠি দিলে ওই কমিটি সবকিছু ভাল করে দেখবেন। নিয়ম মোতাবেক সব কাজ পাওয়া গেলেই তা গ্রহণ করা হবে। তবে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পেতে আরো কিছু সময় লাগবে। নতুন হাসপাতালের আসবাবপত্রের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখেছি। এসব কিছু পাওয়ার পরপরই চালু করা হবে। ’
জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর সিদ্দিক বলেন,‘প্রথম মেয়াদে ৭ম তলা ভবন নির্মাণের কথা ছিল। পরে আরেক তলা যোগ হওয়ায় নির্মাণ কাজে কিছু বেশী সময় লেগেছে। হাসপাতালে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। একটি লিফট চালু হয়েছে, আরেকটি চালুর কাজ চলছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালের ভবন ও সবকিছু হস্তান্তরের জন্য আমরা আগামী সপ্তাহে সিভিল সার্জনকে চিঠি লিখব। ’


