২৫০ শয্যা হাসপাতালের নির্মাণ কাজ নিয়ে সংশয়

শহীদ নূর আহমেদ
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ৮ তলা  ভবনের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দ্বিতীয় দফায় আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আবারও মেয়াদ পায় গণপূর্ত বিভাগ। তবে ওই সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।  
জানা যায়, প্রথম মেয়াদের ওয়ার্কপ্লানে ৩২ কোটি টাকা বরাদ্দে ৭ তলা ভবনের কাজ থাকলেও দ্বিতীয় মেয়াদে আরেক এক তলা যোগ হওয়ায় বরাদ্দ বেড়ে ৪০ কোটি টাকায় চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এখনও দৃশ্যমান কিছু কাজ বাকি রয়েছে, আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় দ্বিতীয় মেয়াদে হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতা, স্থানীয় বাসিন্দা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন মহল।
তবে কিছু কাজ বাকি থাকলেও দ্বিতীয় নির্মাণ মেয়াদের ডিসেম্বরের আগে অক্টোবর মাসেই কাজ শেষ করা যাবে বলে দাবি করেছেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর সিদ্দিকী।
সদর হাসপাতলের নির্মাণাধীন নতুন ভবন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এখনও বাকি রয়ে গেছে ভবনে লিফ্ট লাগানো। ফিনিশিং কোট ও ভবনের বাহিরের রঙ করা হয়নি। সরানো হয় নি নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বাঁশ, কাঠ, টিনসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত বস্তু। ভবনের সামনের রাস্তা নির্মাণের কাজও বাকি আছে। নতুন ভবনে গ্যাস সিস্টেমের কাজ হয়নি। ভবনের ৮ম তলায় আইসিইউ, সিসিইউ এর  অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলেও যন্ত্র সামগ্রী স্থাপন করা হয়নি। এছাড়াও স্যানিটেশন, ওয়ারিং, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বাকি রয়েছে টুকিটাকি অনেক কাজ। দৃশ্যমান বেশকিছু কাজ বাকি থাকায় দ্বিতীয় মেয়াদে কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
এদিকে সদর হাসপাতালের ১০০ শয্যা ভবনে ২৫০ শয্যার চিকিৎসা পরিচালনা, দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ করায় এবং  রোগীর চেয়ে ধারণ ক্ষমতা কম হওয়ায় হিমসিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
দ্রুত নতুন ভবনের কাজ সম্পন্ন হলে রোগীর চাহিদা পুরণ ও চিকিৎসা সেবার মান বাড়বে বলে দাবি সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। থাকছে বর্ধিত ভবনের লোকবল পাওয়ার সুযোগ।
সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ বলেন, ‘দ্বিতীয় মেয়াদে হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণে কিছু কাজ বাকি রয়ে গেছে। চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকোশলী সাহেব। যেভাবে কাজ হচ্ছে এই সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে আমাদের সংশয় রয়েছে। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার তাগদা দিচ্ছি। দ্রুত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে আমাদের জন্যে ভাল হয়। দিন দিন হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্ধিত রোগীদের আবাসন ও চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে আমরা হিমসিম খাচ্ছি।’
হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ পায় জামাল কোম্পানি এন্ড ইসলাম ট্রেডিং করপোরেশন । দৃশ্যমান কিছু কাজ বাকি থাকলেও নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে গণপূর্ত বিভাগের সাথে সহমত পোষণ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ কাজের ম্যানেজার মাসুদ আলম। জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রথম মেয়াদে ৭ম তলা পর্যন্ত সম্পন্ন  করার কথা ছিল। নতুন আরেক তলা যোগ হওয়া ও চলতি মৌসুমে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় নির্মাণ কাজে কিছু বেশী সময় লেগেছে। তারপর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। আমাদের কাছে দ্বিতীয় মেয়াদের সময় ডিসেম্বর পর্যন্ত আছে। ছোটখাটো কিছু কাজ বাকি থাকলেও অক্টোবরের শেষ নাগাদ কাজ শেষ করা যাবে বলে আমরা আশাবাদী।’