আকরাম উদ্দিন
গ্রামের সাড়ে ৪শ’ পরিবারের ভরসা দুই নলকূপ। নিরাপদ পানির চাহিদা মেটাতে সকাল-সন্ধ্যা নারী-পুরুষ ভিড় জমিয়ে তোলেন নলকূপ ঘিরে। কে আগে কে পাছে পানি সংগ্রহ করবে এ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেন সকলে। নিয়ম-শৃংখলা রক্ষায় বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে উপস্থিত হয়ে পানি সংগ্রহ করেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে পানির সংকটে ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সুবহান, নান্টু বর্মন, রামপ্রসাদ বর্মন, আমজাদ হোসেন, কামিন্দ্র বর্মন, জেন্টু বর্মন ও অরুনা বর্মন জানান, এই জগন্নাথপুর গ্রাম মৎস্যজীবী অধ্যুষিত। বেশিরভাগ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করেন। তাদের পেশা মাছ ধরা ও বিক্রি করা। অন্যান্য ব্যবসায় যুক্ত আছেন ২/১টি পরিবার। মাত্র গুটি কয়েক পরিবার শিক্ষিত এবং স্বচ্ছল। কয়েক বছর আগে থেকে সাধারণ নলকূপে পানি না উঠায় গ্রামের মানুষ পড়েন বিপাকে। নৌকায় সুরমা নদী পার হয়ে শহরের বাসা বাড়ি থেকেও খাবার পানি সংগ্রহ করেছেন অনেকে। দীর্ঘদিন গ্রামবাসীর ওপর চলে নিরাপদ পানি সংকটের মহাবিপদ। প্রায় বছর খানেক আগে জগন্নাথপুর সরকারী প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের পাশে এবং মন্দির ঘরের পাশে গভীর নলকূপ স্থাপন করে দেয় একাধিক প্রতিষ্ঠান। এতে কিছুটা নিরসন হলেও নিরাপদ পানির সংকট লেগেই আছে গ্রামের প্রতিটি পরিবারে। তাই আরও গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি আমাদের।
গ্রামের বাসিন্দা যমুনা বর্মন বলেন, সকাল ও সন্ধ্যায় পানি সংগ্রহ করতে ছুটে যেতে হয় গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে স্কুল ঘরের পাশে। যদি এখানে পানি সংগ্রহ করতে না পারি তবে যেতে হয় গ্রামের শেষ প্রান্তে মন্দির ঘরের পাশে। এই আসা-যাওয়ায় কোনো কোনো দিন পানি সংগ্রহ করতে পারি না। অন্যের ঘর থেকে পানি কর্জ করতে হয়। আমাদের আরও গভীর নলকূপের জরুরি প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ী নিথিশ বর্মন বলেন, সকাল থেকে কলস, জগ, হাছি, ডেক্সি নিয়ে মহিলা ও পুরুষেরা পানির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। সময় হলেই চালু করা হয় নলকূপ। তখন সবাই পানি নিতে তাড়াহুড়া দেখান। এতে মন কালাকালিও হয়। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে, পড়েন সবাই মহা বিপদে। তখন আর ভোগান্তির সীমা থাকে না। গ্রামবাসীর নিরাপদ পানি সংকটে আরও নলকূপ প্রয়োজন।


