সাইদুর রহমান আসাদ
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের এক্সরে মেশিনের রেডিওলজিস্ট ও রেডিওগ্রাফার না থাকায় সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন লাখো মানুষ। এতে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। ৫ বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে এক্সরে মেশিন। বর্তমানে হাসপাতালে থাকা ৩ টি এক্সরে মেশিনের মধ্যে একটি একেবারে অকেজো হয়ে গেছে।
জানা যায়, সর্বশেষ এ বিভাগের ডাক্তার ছিলেন জুনিয়র রেডিওলজিস্ট ডা. সালেহ আহমদ আলমগীর। তিনি ২০১৬ সনের ৩০ এপ্রিল অবসরে চলে যান। এরপর থেকে এক্সরে মেশিন আর চালু করা হয়নি। পরে এ বিভাগে রেডিওগ্রাফার নিয়োগ হলেও অদৃশ্য কারণে সবাই বদলি হয়ে যান। এখন ৩ টি এক্সরে মেশিন থাকলেও একটি অকেজো হয়ে গেছে। এখন বর্তমানে একটি এনালগ ও একটি ডিজিটাল এক্সরে মেশিন রয়েছে। এ দুটি মেশিনও অচল অবস্থায় আছে।
শহরের সচেতন মহল বলছেন, জেলার ২৪ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯৬৮ জন মানুষের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার আশ্রয়স্থল এটি। এখানে ডাক্তার ও রেডিওগ্রাফার না থাকার ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এজন্য সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসলেও এক্সরে করাতে হয় বাইরে। এতে পাঁচশ’ থেকে এক হাজার টাকা গুনতে হয় রোগীদের। এতো বছর ধরে এ বিষয়ে ডাক্তার ও রেডিওগ্রাফার নেই তা তদন্ত হওয়া জরুরী।
সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির সহসভাপতি অ্যাড. খলিল রহমান বললেন, জেলার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির সর্বশেষ ভরসার জায়গা হলো সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এতো বছর ধরে কোনো এক্সরে হচ্ছে না। মেশিনগুলো এতোদিন না চালানোর ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা মনে করি এখানে লোকবল না থাকার পেছনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে।
শিক্ষাবিদ ন্যাথানায়েল এডউইন ফেয়ারক্রস বলেন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এক্সরে মেশিন থাকলেও প্রায় ৫ বছর ধরে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার নেই। আসতে দেয়াও হচ্ছে না। এর পেছনে বড় একটা সিন্ডিকেট রয়েছে। আমরা দেখেছি সুনামগঞ্জ থেকে কয়েকদিন আগে ২০ দিনের মাথায় একজন সিভিল সার্জনকে বদলি করা হয়েছিলো। এগুলো এ সিন্ডিকেটের অংশ হতে পারে। তাদের ব্যবসার সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট ডাক্তার আসুক চায় না তারা। ছোট জেলা শহর হওয়ায় কেন্দ্রেরও এগুলো নজরে পড়ছে না। তাই সবাইকে এবিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।
বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল হাকিম বললেন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২০১৬ সালে এ বিষয়ের ডাক্তার অবসরে যান। এরপর থেকে এক্সরে মেশিন বন্ধ রয়েছে। অনেকদিন এ মেশিন না চালানোর ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখানে ডিজিটাল এক্সরে মেশিন রয়েছে। এ মেশিন দিয়ে দেখে দেখে হাড় ভাঙলে জোড়া দেয়া যায়।
তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো গাফলতি নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, প্রতি মাসে সিভিল সার্জন কোন কোন বিভাগে ডাক্তার নেই সে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠান। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার না থাকার ফলে এক্সরে মেশিন নষ্ট হচ্ছে বিষয়টি এমপি. মন্ত্রী সহ সবাই জানেন। তবু কেনো ডাক্তার আসছেন না সেটি মন্ত্রণালয় ভালো জানে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ড. আনিছুর রহমান বলেন, আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আশা করি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার খুব তাড়াতাড়ি পাবো আমরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন শামস উদ্দিন বললেন, এক্সরে মেশিন না চালালে নষ্ট হবে। তবে আমরা একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি, ডিও লেটার দিয়েছি। বিষয়টি মন্ত্রী, এমপি সবাই জানেন।


