বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে নদীর পানি কমতে শুরু হতেই তীর ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে যোগাযোগ সড়ক, গ্রামীণ জনপদ, হাট-বাজার, মসজিদ ও কবরস্তান। জেলার ৬ টি নদীর ১৮ স্থানে তীব্র আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে ৪ টি পয়েন্টে নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করেছে পাউবো। পাউবো’ র তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ নিয়েও নানা সমালোচনা রয়েছে।
জেলার খর¯্রােতা নদী সুরমা, কুশিয়ারা, নলজুর, বটেরখাল, মহাশিং ও পুরাতন সুরমা নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিন দফা বন্যার পানি নামা শুরু হতেই টইটুম্বুর নদীর পানি কমছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙছে নদীর পাড়। জেলার জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ সদর, দিরাই, শাল্লা, ছাতক, দোয়ারা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার হাটবাজার, গ্রামীণ জনপদ, মসজিদ ও কবরস্তান ইতমধ্যে নদীগর্ভে গেছে। ভাঙন ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
নলজুর নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ সড়ক, জগন্নাথপুর পৌরসভার বাজার এলাকা, কুশিয়ারার ভাঙনে শাল্লা উপজেলার প্রতাপপুর, ফয়জুল্লাপুর, জগন্নাথপুরের আলমপুর-বালিশ্রী, বড়ফেচি, দিরাই উপজেলার আখিলশাহ্, মহাশিং নদীর ভাঙনে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আক্তাপাড়া বাজার, সুরমা নদীর ভাঙনে ছাতকের নুরুল্লাপুর, মুক্তিরগাঁও, দোয়ারাবাজারের নূরপুর, সুনামগঞ্জ পৌরসভার উকিলপাড়া, জগাইরগাঁও, পৈন্দা, মোহনপুরের কবরস্তান ও ধর্মপাশার বাবুপুর ভাঙছে, পুরাতন সুরমার ভাঙনে সদর উপজেলার কলাইয়া গ্রাম বিলীন হতে চলেছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার মাঝেরগাঁওয়ের আব্দুল হান্নান বললেন,‘আমার ৬০ হাট লম্বা বসতঘরের বেশিরভাগই গত তিনদিনে নদীতে বিলীন হয়েছে।’ তিনি জানালেন, এর আগে মাঝেরগাঁওয়ের আবুল হোসেন, ফয়জুল করিম, আজাদ মিয়া ও আব্দুল হেকিমের দোকানঘর নদীতে বিলীন হয়েছে।
নদীর তীর সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখেছে স্থানীয় পাউবো।
ইতিমধ্যে জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ সড়ক, শাল্লা উপজেলার প্রতাপপুর ও ফয়জুল্লাপুর এবং ছাতকের নুরুল্লাপুরের ভাঙন ঠেকাতে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলরা।
জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ সড়কের ১৪০ মিটার ভাঙন ঠেকাতে ৪৬ লাখ ৫৬ হাজার, শাল্লা উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের ১৫০ মিটার নদী সংরক্ষণের জন্য ৩৯ লাখ ১৪ হাজার, ফয়জুল্লাপুরের ১৫০ মিটার নদী সংরক্ষণের জন্য ৩৯ লাখ ১৪ হাজার এবং ছাতকের নুরুল্লাপুর গ্রামের ভাঙন ঠেকাতে ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
ভাঙন ঠেকাতে নদীতে মাটি ও বালু মিশ্রিত হাজার হাজার বস্তা ফেলা নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমালেনাচনা রয়েছে। বিশেষ করে বস্তার গণনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে।
তবে পাউবো’র সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান দাবি করেছেন, পাউবো’র নদী সংরক্ষণ প্রকল্পের ৪ টি কাজ চলমান রয়েছে। সেগুলো অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হচ্ছে।
- জাতির পিতার সংগ্রামে প্রেরণা যুগিয়েছেন বঙ্গমাতা-প্রধানমন্ত্রী
- এবারের দুর্গাপূজা নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হলো


