রাষ্ট্র্রীয় মর্যাদায় মুক্তিযোদ্ধা উজির মিয়ার নামাজে জানাজা সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার
শহরের ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন উজির মিয়ার (৭০) নামাজে জানাজা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর ষোলঘর পুরাতন জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এই নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে রাস্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করে ষোলঘর করবস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। মরহুম উজির মিয়া বার্ধক্যজনিত কারণে গত বুধবার রাত ১০.১৫ মি. ইন্তেকাল করেন। মুত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
নামাজে জানাজায়  উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়া, সিভিল সার্জন ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল হাকিম, অ্যাডভোকেট আবু আলী সাজ্জাদ হোসেইন, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, লেখক কলামিষ্ট মু. আব্দুর রহীম, জেলা জাসদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আ.ত.ম সালেহ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার নুরুল মোমেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সৈয়দ সামছুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শেরেনুর আলী, অ্যাড. সালেহ আহমদ, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মো. আবু সুফিয়ান, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার আব্দুল মজিদ, অ্যাড. সামছুদ্দীন, পৌর কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেল, অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ, অ্যাডভোকেট খলিল রহমান, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
নামাজে জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের ইনাতনগর গ্রামের বাসিন্দা চেলা সাব সেক্টরের সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন উজির মিয়ার  একটি কিডনি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসাধীন ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
১৯৭১ সালে দোয়ারাবাজার-ছাতক এলাকায় পাকিস্তানী সেনা, রাজাকার, দালালদের ত্রাস ছিলেন উজির মিয়া। সেক্টর কমান্ডার জেনারেল মীর শওকত আলী, সাব সেক্টর কমান্ডার কর্নেল হেলাল, আঞ্চলিক কমান্ডার কর্নেল রউফ তাকে পাগলা উজির নামে ডাকতেন। বেতুরা ফকির চেয়ারম্যানের বাড়ি উড়িয়ে দেয়া, টেংরাটিলা দখল, সুনামগঞ্জ-সিলেট রাস্তার আহসানমার সেতু ধ্বংস, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ রাস্তার জাউয়ার সেতু ও রেলসেতু উড়িয়ে দেওয়া সহ অসংখ্য অপারেশনের প্রত্যক্ষ সেনা ছিলেন এই উজির মিয়া।