আসাদ মনি
সুনামগঞ্জে ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুরু করেছিলেন প্রচারণা, পোস্টার সাটানো লিফলেট বিতরণসহ নানাভাবে নিজেদের প্রার্থীতার কথা জানান দিচ্ছিলেন। কিন্তু মার্চে নির্বাচন হচ্ছে না এমন প্রচারণায় হঠাৎ করেই আগ্রহে ভাটা পড়েছে অনেকের। কেউ বলছেন নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় ভোগন্তি বেড়েছে, আবার কেউ বলছেন নির্বাচন পেছানোতে ভালো হয়েছে।
আগামী মার্চে সুনামগঞ্জের অনেক ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। মেয়াদ শেষের আগে নির্বাচন করার কথা থাকলেও তা পারছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঈদের পর ইউনিয়ন পরিষদ ভোট শুরুর চিন্তা করছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি। নির্বাচন পেছানোয় সুনামগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীদের সুবিধা বেড়েছে। বর্ষায় নৌকায় করে নির্বাচনী প্রচারণা সহজেই করতে পারবেন তারা। তবে অপেক্ষাকৃত উঁচু উপজেলার ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা অসুবিধার কথাও জানিয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহার আলী বলেন, বয়স তো অনেক হলো। প্রায় ৭২ চলে। এখন অবসরে যেতে চাই। তাই যত তাড়াতাড়ি নির্বাচনের আয়োজন করা যায় ততই ভালো।
তিনি আরও বলেন, সামনে রমজান মাস। রোজা রাখবো। রোজার পর যদি নির্বাচন হয়, তাহলে কর্মীদের রোজাতেই প্রচারণা চালাতে হবে। এতে ভোটারদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্ধী মো. হোসাইন শরীফ (বিপ্লব)। তিনি এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচন করবেন। প্রচারণায়ও নেমে পড়েছেন। নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় তিনি অবশ্য স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা হাওর পাড়ের মানুষ। এখন হাওরের বাঁধের কাজ চলছে। এরপরই ফসল কাটা শুরু হবে। তাই মার্চে নির্বাচন না হওয়ায় ভালো হয়েছে। এক্ষেত্রে রমজানের পর যদি নির্বাচন হয়, আমাদের জন্য ভালো।
দোয়ারাবাজারের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমিরুল হক বলেন, নির্বাচন পেছানোয় অনেক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এলাকার একটা গ্রামের সঙ্গে আরেকটা গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। মার্চের পরে নির্বাচন হলে স্বাভাবিক কারণে ভোটার, কর্মী, সমর্থকসহ সবারই কষ্ট হবে। মার্চের মধ্যে বা শীতকালে নির্বাচন করার দাবি এই চেয়ারম্যানের।
ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির বিষয় জড়িত এখানে। তাই তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভালোর জন্যই নিয়েছে। ঈদের পরে নির্বাচন হলে আমাদের জন্য ভালো হবে।
একই উপজেলার খুরমা উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ বলেন, আমরা যারা বর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছি তাদের জন্য মার্চে নির্বাচন হলে ভালো হতো। কারণ মার্চের পরে চারদিকে পানি চলে আসবে। তখন কাজ করা মুসকিল।
জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার বলেন, প্রার্থীদের সুবিধা অসুবিধা থাকবেই। নির্বাচন কমিশন যখন সিদ্ধান্ত নেবে তখনই নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে সময় নিয়ে প্রার্থীদের অভিযোগ থাকলে নির্বাচন সচিব বরাবর আবেদন করতে হবে।


