স্টাফ রিপোর্টার
জগন্নাথপুর ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় দুটি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এটিআই) স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে দুটি প্রকল্পে ব্যায় ধরা হয়েছে ৩৫৬.০৮ কোটি টাকা। এ বছর কাজ শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে।
প্রকল্পের আওতায় ২টি প্রশাসনিক কাম একাডেমিক ভবন, ২টি কৃষক ডরমেটরী ভবন, ২টি কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন, কর্মচারীদের আবাসিক ভবন ২টি, অতিথি ভবন ২টি, অধ্যক্ষের বাস ভবন ২টি, মসজিদ ২টি, ছাত্রীনিবাস ২টি, ছাত্রাবাস ২টি, আবাসিক ভবন (কর্মকর্তা) ৪টি, আবাসিক ভবন (কর্মচারী) ৪টি নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পে অভ্যন্তরিন রাস্তা থাকবে ৬০৭০.২৪ রা.মি। দুইটি প্রকল্পে ৩০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। এরমধ্যে জগন্নাথপুরে ১৫.০৫ একর এবং মোহনগঞ্জে ১৪.৯৫ একর। দুটি এটিআই’র জন্য ৭৩টি কম্পিউটার, ১৮টি ল্যাপটপ, স্ক্যানার ৩৭টি, মাল্টিমিডিয়া ১০টি, ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিসপ্লে বোর্ড ৮টি ক্রয় করা হবে। এছাড়াও প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয় করা হবে। থাকবে স্থানীয় প্রশিক্ষণ, এটিআই অফিসার প্রশিক্ষণ, যান্ত্রীকীকরণ বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং বৈদেশিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এদিন সকাল ১০টা থেকে একনেকের বৈঠক শুরু হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন ছয় হাজার ৫৫১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে চারটি নতুন প্রকল্প ও পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প। ৯ প্রকল্পের মধ্যে সরকারি অর্থায়নে তিন হাজার ৭৪২ কোটি ২৯ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব ঋণ ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা ও বৈদেশিক ঋণ দুই হাজার ৭৮২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এসময় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের জানান, যে কোনো প্রকল্পে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনকি চাকরি থেকে অবসরে গেলেও অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা বলেছেন সরকারপ্রধান। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাবনা অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে যারা অনিয়ম করেছে তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। জড়িতদের মধ্যে যারা অবসরে গেছেন প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
এম এ মান্নান বলেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কাজ শেষ করতে চূড়ান্তভাবে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। যারা এই প্রকল্পের বিলম্বের ক্ষেত্রে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি সময়ের মধ্যে চলমান কাজ শেষ করতে বলেছেন।
মন্ত্রী বলেন, এই বিষয়ে আইএমইডি সচিবকে দিয়ে একটা কমিটি গঠন করি। সচিব একটা বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্ট দিয়েছেন, সেটা আমি প্রধানমন্ত্রীকে পাঠাই। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও গণপূর্ত বিভাগকে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি অনুরোধ করেছি। আর নতুন পিডির মাধ্যমে কাজ শুরু করতে বলেছি।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী আজকের একনেক বৈঠকে বলেছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু কারখানার ভেতরে করলে চলবে না। কারখানা এলাকায় ইটিপি স্থাপন করতে হবে। এছাড়া কোনো প্রকল্পে বৈদেশিক সহায়তা না পেলে রিজার্ভ থেকেও ঋণ নেওয়া যেতে পারে। তবে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে রিজার্ভ থেকে। এছাড়া, দেশের সব এলাকায় সমানভাবে উন্নয়নকাজ করতে হবে। যাতে কোনো এলাকা অবহেলিত না হয়।
একনেকে অনুমোদন পাওয়া ৯টি প্রকল্পগুলো হলো-
সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেজ-৩) (প্রথম সংশোধিত)। কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ (প্রথম সংশোধিত)। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, কুষ্টিয়া (দ্বিতীয় সংশোধিত)। জগন্নাথপুর ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় দুটি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এটিআই) স্থাপন। টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালীপাড়া-কালামপুর বাসস্ট্যান্ড সড়ক আঞ্চলিক মহাসড়কের যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ। রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার নদীতীর সংরক্ষণ, ছোট নদী, খাল-বিল পুনঃখনন ও জলাবদ্ধতা নিরসন। শরীয়তপুর জেলার কীর্তিনাশা নদীর ডান ও বাম তীর রক্ষা।
বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন (প্রথম সংশোধিত) এবং খুলনা হতে মোংলা পোর্ট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)।


