বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা বন্ধ করুন

দোয়ারাবাজারের ভুয়া ভিসায় লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে জালাল উদ্দিন অথবা জালাল মুল্লা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, জালাল দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। সে ভুয়া ভিসার মাধ্যমে লোক পাঠিয়ে থাকে বলে জানা গেছে। কয়েক মাস আগে বাজিতপুরের দিনমজুর দুলাল মিয়াকে দুবাই পাঠানোর কথা বলে সে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেয়। দুলালকে বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হয় জালাল। স্থানীয় সালিশ বিচারের মাধ্যমে সে ভুক্তভোগীর টাকা ফেরৎ দেয়। একই সাথে দুলালকে বিদেশ পাঠানোর অঙ্গীকারও করে। দুলালের নিকট থেকে সে পুনরায় বিদেশ পাঠানোর নামে ২ লাখ টাকা গ্রহণ করে। সে দুলালের হাতে একটি ভুয়া ভিসা ধরিয়ে দেয়। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ফেরৎ আসে দুলাল। প্রতারিত দুলালের কাহিনী জানার পর স্থানীয় লোকজন মানব পাচারকারী জালালের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ক্ষুব্ধ লোকজন গত শনিবার জালালকে আটক করে। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
প্রতারিত দুলাল দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সে হয়ত ধার-দেনা করে বা জমি-ভিটে বিক্রি করে ২ লাখ টাকা সংগ্রহ করে জালালকে দিয়েছিল একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের আশায়। কিন্তু তার সেই আশা ধূলিস্যাৎ হয়ে গেল। এখন তার টাকা পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে প্রতারিতরা খুব সামান্য ক্ষেত্রেই পুরো টাকা ফেরৎ পান। স্থানীয়ভাবে চাপ দিতে পারলে কিছু টাকা ফেরৎ পাওয়া যেতে পারে। দুলাল ভাগ্যক্রমে প্রথমবারের টাকা ফেরৎ পেলেও পরের ২ লাখ টাকা ফেরৎ পাবে কিনা তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে যে জিনিসটি সকলের সামনে উন্মোচিত হয়েছে তা হলোÑ গ্রামের সহজ-সরল বহু মানুষ জালালের মত প্রতারক মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে সর্বশ^ান্ত হচ্ছে।
জালালের মত ব্যক্তিরা কীভাবে নিরুপদ্রবে এই প্রতারণার ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে? এটি এককভাবে জালালের প্রতারণা নয়। এটি একটি সংঘবদ্ধ দলের প্রতারণা। এমন বহু চক্র বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছে। এসব অবৈধ মানবপাচারকারী ক্ষমতাশীন মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এমন প্রতারণা করতে পারত না। দুলালের মত অসংখ্য মানুষ এখন জীবীকার জন্য যেকোনভাবে বিদেশ যেতে চায়। দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় ঝুঁকি নিয়েও তারা এইসব প্রতারকের খপ্পরে পড়ে। সাধারণত আমাদের দেশের মানুষ বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা রাখে না। প্রতারকদের লোভনীয় কথাবার্তায় এরা আকৃষ্ট হন। তখন সবকিছু বিক্রিবাট্টা করে টাকা তুলে দেন প্রতারকদের হাতে। কেউ কেউ যেতে পারে। কেউ কেউ পারে না। যারা পারে না তাদের অবস্থা হয়ে যায় দুর্বিষহ। যেমন এখন হয়েছে দোয়ারাবাজারের দুলাল মিয়ার অবস্থা।
প্রশাসনের উচিৎ দুলালকে প্রতারণা করা মানব পাচারকারী জালালকে আটক করে এই চক্রের পুরো তথ্য জেনে অবৈধ কারবার থেকে বিরত করা এবং শাস্তি দেয়া। আমরা জানি না জালালের খুঁটির জোর ঠিক কতটা। তবে প্রতারকের খুঁটির জোর যদি নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের চাইতে বেশি হয়ে পড়ে তখন আর কিছু করার থাকে না। স্থানীয়ভাবে সালিশ পঞ্চায়েত করে দুলালের ভাগ্য ভাল হলে হয়ত পুরো বা আংশিক টাকা পেলেও পেতে পারে। তবে আমরা চাই দেশ থেকে এমন মানব পাচারের অবৈধ কর্মকা- চিরতরে রুদ্ধ হোক। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর জন্য সরকার যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন সেখানে অভিবাসীর যাতায়াত খরচ মালয়েশিয়ার নিয়োগকারী কর্তৃক বহন করার কথা। দেশের সাধারণ মানুষ এইসব তথ্য কতটুকু জানে আমরা জানি না। তবে আমরা এটুকু জানি প্রশাসন সক্রিয় না হলে জালালের মত মানবপাচারকারীদের দৌরাত্ম্য কিছুতেই কমবে না।