উদ্বিগ্ন ৪ হাজার কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি
শাল্লার দাড়াইন নদীর পাড়ের দুটি ভাঙন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ৮ গ্রামের প্রায় চার হাজার কৃষক। ভাঙন দুটিতে বাঁধ না হলে দাড়াইন নদীর পানি কূল উপচে ঢুকবে হাওরে, ডুবে যাবে ৯০০ একরেরও বেশি জমি। স্থানীয় লোকজনের দাবির প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে এই ভাঙনগুলো দেখে এসেছেন। জরুরি ভিত্তিতে এসব ভাঙনে বাঁধ দেবার ব্যবস্থা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
জানা যায়, শাল্লা উপজেলা সদরের পাশের বর্ধিত ছায়ার হাওরের কোনারবন্দ, জুয়ারিয়া হাওর, কৈয়ারবন্দ, ও পুটিয়ারবন্দে জমি আছে প্রায় ৯০০ একর। হাওরপাড়ের রঘুনাথপুর, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও, সুখলাইন, কলাকান্দি, কান্দিখলা, ডুমরা, উজান ও ভাটি যাত্রাপুরের প্রায় চার হাজার কৃষকের জমি রয়েছে এই হাওরগুলোতে। এই হাওরগুলোর জমি অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষার জন্য দুই বছর আগেও দাড়াইন নদীর পাড়ের রঘুনাথপুর সারিগাছের পাশের ভাঙন ও কৈয়ারবন্দের ভাঙনে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এই বছর ওখানে বাঁধ হয় নি। নদীতে পানি এখনই টইটুম্বুর প্রায়। এই অবস্থায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে কৃষকদের।
ঘুঙ্গিয়ারগাঁওয়ের বড় কৃষক সুবির সরকার পান্না বললেন, গেল বছর দাড়াইন নদীতে এই সময়ে (৩১ মার্চ) যে পরিমাণ পানি ছিল, এবার এর চেয়ে বহু বেশি। একারণে দুশ্চিন্তা ঘরে ঘরে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারা দ্রুত বাঁধের ব্যবস্থা হবে বলেছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোন কাজ হয় নি।
তিনি জানালেন, দাড়াইন নদীর পানি এই সময়ে যা হয়েছে আর দেড় ফুট পানি হলেই হাওরে পানি ঢুকবে। নদীর পূর্ব পাড়ের সুবিনয় দাসের বাড়ি হতে রঘুনাথপুর সারিগাছ পর্যন্ত অংশের ভাঙনে বাঁধ না হলে বিপদে পড়বেন কৃষকরা। এই ভাঙন দিয়ে পানি ঢুকলে কোনারবন্দের প্রায় ১০০ একর, জুয়ারিয়া হাওরের ৩০০ একর জমি ডুবে যাবে। আবার নদীর পশ্চিমপাড়ে শাল্লা কলেজের পূর্ব দিকের অংশের ভাঙনে বাঁধ না হলে কৈয়ারবন্দের ৩০০ একর এবং পুটিয়ারবন্দের হাওরের ৩০০ একর জমির ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকবে। দাড়াইন নদীতে এক ফুট পানি বাড়লেই এই ভাঙন দিয়ে পানি ঢুকবে।
একই মন্তব্য করলেন সুখলাইনের কৃষক অমল দাস ও রাজন রায়। এই দুই কৃষক বললেন, গেল বছর পর্যন্ত রঘুনাথপুরের পাশের খাল এতো বড় ছিল না। বর্ষকালে নৌকা চলাচল করতে করতে খাল একটু বড় হয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ^জিৎ চৌধুরী নান্টু বললেন, এলাকাবাসী আমার কাছে এসেছিলেন, আমি পরিষদের ১২ জন সদস্যকে নিয়ে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়ে এসেছি। তিনি ব্যবস্থা নেবার আশ^াস দিয়েছেন।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের শাল্লা উপজেলা কমিটির সভাপতি তরুণ কান্তি দাস বললেন, শাল্লায় অপ্রয়োজনীয় বাঁধের ছড়াছড়ি, যে যেভাবে পারে বাঁধের ব্যবসা করেছে। শাল্লা উপজেলা সদরের পাশের কোনারবন্দের খাল এবং শাল্লা কলেজের পূর্ব দিকের খালে বাঁধ হলে নিশ্চিন্ত থাকতেন কৃষকরা। ছোট ছোট চারটি হাওরে কমপক্ষে আট—নয়শ’ একর জমি আছে। আট গ্রামের কৃষক এসব হাওরের জমির উপর নির্ভরশীল। অপ্রয়োজনীয় অন্য কোন বাঁধে কাজ না করিয়েও সামান্য মাটি এই ভাঙনে দেওয়া যেতো। হাওরে পানি ঢুকলে ফসলের পরিমাণ হিসাব করার আগে সকলে জানবে, শাল্লায় হাওর ডুবেছে, এই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের আমলে নিতে হবে।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব বললেন, স্থানীয় মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার আমি সরেজমিনে দাড়াইন নদীর পাড়ের ভাঙন দেখে এসেছি। দ্রুতই এই ভাঙনে বাঁধের কাজ শুরু করে সকলকে নিশ্চিন্ত করা হবে। শুক্রবারের মধ্যেই কাজ শুরু করার কথা জানালেন তিনি।