সোহেল তালুকদার, শান্তিগঞ্জ
পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির চাপ বেড়েছে। ফলে হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার ছোট বড় ২৩টি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশে ধস ও ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার ছোট বড় ২৩টি হাওরের মধ্যে ফসল রক্ষা বাঁধের উতারিয়া, রাঙ্গামাটিয়া, পাখিমারা, শালদিগা, রাঙ্গামাটি, শল্লার দাইড়, দিঘদাইড় সহ বিভিন্ন বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বাঁধগুলির অবস্থা আশংকাজনক অবস্থায় রয়েছে। রবিবার থেকে এসকল বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ খবর পেয়ে রাতেই উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে তাৎক্ষণিক বাঁধে ছুটে যান এবং বাঁধ রক্ষায় পিআইসি কমিটি সহ স্থানীয় কৃষকদের সাথে নিয়ে কাজ শুরু করেন।
মঙ্গলবার ভোর থেকে উপজেলার গ্রামে গ্রামে মসজিদের মাইকে ফসল বাঁধ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়। হাওরের আধা কাঁচা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই কৃষকদের। রাতের ঘুম হারাম হয়ে পড়েছে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখার হাওরের গিয়ে দেখা যায়, হাওরের অধিকাংশ জমিতে আধাপাকা ধান রয়েছে। ধান কাটার উপযোগী এখনও হয়নি। দেখার হাওরের উথারিয়া, খাই হাওরের শল্লার দাইড়, জয়কলসের বাঁধ ও আহসানমারা ফসল রক্ষা বাধ উপজেলা প্রশাসন সহ স্থানীয় কৃষককেরা মাটি ফেলার কাজ করছেন।
আস্তমা গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, দেখার হাওরের মহাসিং নদীর পানি দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদ—নদীতে পানি বাড়ায় বাঁধ ভেঙে ফসলডুবির শঙ্কা রয়েছে। আমরা বুঁকিপূর্ণ ফসল রক্ষা বাঁধের অংশে মোকাবেলা করার জন্য শ্রমিক, মাটির বস্তা, জিও ব্যাগ সহ বাঁশ প্রস্তুত রেখেছি।
কৃষক সেলিম মিয়া, এলকাছ মিয়া রুবেল মিয়া জানান, দেখার হাওরের সব কয়টি বাঁধের উচ্চতা অনেক বেশি আছে। তবে ৪৭ নং প্রকল্পের কাজে (দিগদাইড় ক্লোজারে) অনেক ত্রুটি ছিলো তাই বাঁধের কিছু অংশে ধস নেমেছিলো, রাতেই স্থানীয় কৃষক ও প্রশাসনের লোকজন এসে বাঁধটি রক্ষা করেছেন। এখনো কাজ চলমান আছে।
তারা আরও জানান, সকাল থেকে নদীর পানি দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় জয়কলস খাদ্য গুদামের পাশে ও আহসানমারা ব্রীজের নিচের বাঁধ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে সেখানেও স্বেচ্ছায় হাওরের কয়েক শত কৃষক কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত দেখার হাওরের অবস্থা ভালো আছে বলেও জানান তারা।
জয়কলস ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত সুজন বলেন, নদ—নদীর পানি এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোন বাঁধই এখন পর্যন্ত ভাঙ্গে নাই। তবে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁধের উপর দিয়ে পানি হাওরে ঢুকলে ফসল রক্ষা করা যাবে না।
শান্তিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এবার ৫৬টি প্রকল্পে ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি বেড়িবাঁধ অতিরিক্ত পানির চাপে ঝুঁকিতে আছে। ফসল রক্ষা বাঁধ রক্ষায় জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সঙ্গে স্থানীয় কৃষক কাজ করে বাঁধ রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন। উপজেলায় এখন পর্যন্ত কোন ফসল রক্ষা বাঁধ ভাঙ্গে নাই। আশাকরি আর পানি বৃদ্ধি না পেলে হাওরের ফসল ফসল হানি থেকে রক্ষা পাবে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার উজ জামান বলেন, কৃষকদের সঙ্গে আমিও সারা রাত হাওরে ছিলাম। আশা করছি আর পানি না বাড়লে ফসল উত্তোলন করা যাবে। বেড়িবাঁধ রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।


