অস্থিরতা চালের বাজারে

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলার হাওরাঞ্চলের ফসলহানির প্রভাব পড়তে শুরু হয়েছে স্থানীয় হাট-বাজার গুলোতে। গত চারদিন ধরে জেলার চালের বাজার অস্থির হয়ে ওঠেছে। প্রতি কেজি চালের দাম ২-৩ টাকা করে বেড়েছে। অর্থাৎ বস্তা প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে চালের দাম। খুচরা বিক্রেতারা বলেছেন, ওএমএস’র চালের মূল্য বাড়ানোয় বাজারে চালের ক্রেতা বেড়েছে, এছাড়া স্থানীয় মিলাররা ধান না ভাঙানোয় তাদের চাল পেতে সমস্যা হচ্ছে। এ কারণেও বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থায় জেলা প্রশাসক মঙ্গলবার মিলারদেরকে জরুরি সভায় ডেকেছেন।
সোমবার সুনামগঞ্জের চালের বাজার জেলরোডের দোকানীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় জাতের ২৮, ২৯ মালা জাতের চাল গত চার দিনে বস্তা প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। মোটা হীরা-মুক্তা চালেরও একই অবস্থা।
দোকানীরা বললেন, স্থানীয় অনেক অটো রাইস মিলের মালিকের গোডাউনে ধান স্টক রয়েছে। এরা যে পরিমাণ চাল প্রতিদিন প্রয়োজন ঐ পরিমাণ চাল ভাঙাচ্ছে না। তারা অপেক্ষা করছে চৈত্র মাসে অভাব বাড়লে বেশি দামে চাল বিক্রি করে বেশি মুনাফা করবে। অন্যদিকে, সরকার ওএমএস’র চাল ১৫ টাকার স্থলে ৩০ টাকা করায় বাজারে চালের ক্রেতা বেড়েছে। স্বল্প আয়ের কর্মজীবী লোকজন আগে যারা লাইনে দাঁড়িয়ে ওএমএস’র চাল কিনতেন, এদের অনেকেই এখন লাইনে না দাঁড়িয়ে সামান্য বেশি দামে বাজার থেকেই চাল কেনা শুরু করায় গত চারদিন হয় চালের বাজারে এমন সমস্যা তৈরি হয়েছে।
জেল রোডের মেসার্স শাহজালাল চালের আড়তের মালিক শহীদুল ইসলাম ভুইয়া    বললেন,‘স্থানীয় অটো রাইস মিলগুলোতে ধান আছে। মৌসুমের সময় অন্য জেলা থেকেও এরা ধান কিনে এনেছে। কিন্তু ঐ ধান এখন ভাঙাচ্ছে না তারা, মিলাররা ধান ভাঙিয়ে দেশীয় বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিক্রি করলে খুচরা দোকানীদের কাছে চাল থাকবে। ক্রেতার চাল পেতে সমস্যা হবে না। বাজারও অস্থির হবে না।
পাশের দোকানের চাল বিক্রেতা মিঠু রায়সহ বাজারের সকল দোকানীগণ একই ধরনের মন্তব্য করলেন।
দোকানীদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে মেসার্স হক অটো রাইস মিলের মালিক জিয়াউল হক বলেন,‘আমার মিলে কোন ধান স্টক নেই। ইচ্ছে করলে সরকারী কোন কর্তৃপক্ষও দেখে আসতে পারেন।’
মেসার্স রাসেল অটো রাইস মিলের মালিক রাসেল আহমদ বলেন,‘আমরা প্রতিদিনই ধান ভাঙাচ্ছি, ভারত থেকে আমদানী করা কিছু চালও এনে বিক্রি করছি বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য, গোদামে ধান রেখে ভেঙে বিক্রি করছি না এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়।’
যমুনা অটো রাইস মিলের পরিচালক মিলন মিয়া বলেন, ‘আমার এখানে কিছু পঁচা ধান আছে, এগুলো ভাঙালেও কেউ নিতে চায় না।’
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘হাওরে বোরো ফসলহানির পর স্থানীয় চালের জোগানে কমতি রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারেও। তবে কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করেন সেজন্য মিলারদের জরুরি সভায় ডাকা হয়েছে। কেউ চড়া দামে চাল বিক্রি করলেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’