পদস্থ ৩ প্রকৌশলীর সম্পদের খুঁজে দুদক

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বাঁধ দুর্নীতির মামলার আসামী ৩ প্রকৌশলীর সম্পদের খুঁজে নেমেছে দুদক। তাঁদের আয়-ব্যয় হিসাব, কতবার বিদেশ গিয়েছেন এসব তথ্য খোঁজা হচ্ছে বলে দুদক ও পাউবো সুত্রে জানা গেছে।
এই প্রকৌশলীরা হচ্ছেন- সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দীন, সিলেট সার্কেলের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম সরকার, সিলেট উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই।
সুনামগঞ্জ পাউবোর একজন প্রকৌশলী জানান, দুদকের পক্ষ থেকে বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী আফছার উদ্দিনের সম্পদের হিসাব নেবার জন্য টিআইএন নম্বর চাওয়া হয়েছে। কিন্তু সুনামগঞ্জ পাউবো অফিসে তাঁর টিআইএন নম্বর না থাকায় তারা দিতে পারেন নি।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বখর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন,‘হাওর রক্ষা বাঁধ নিয়ে দায়ের করা দুর্নীতি মামলার দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা আমাদের কাছ থেকে ইতিপূর্বে অনেক কাগজপত্র নিয়েছেন। আমরা যা যা পেরেছি দিয়েছি। এখন তাঁরা সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আফছার উদ্দিনসহ কিছু প্রকৌশলীদের ব্যক্তিগত কিছু বিষয় জানার জন্য কাগজপত্র চেয়েছেন, আমাদের কাছে যা আছে, আমরা তাঁদের দেব।’
হাওররক্ষা বাঁধ দুর্নীতি মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমদের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘আমরা আফছার উদ্দিন, নুরুল ইসলাম ও আব্দুল হাইয়ের ব্যক্তিগত বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি, তাঁদের আয়-ব্যয়, কতবার বিদেশে গেছেন এসব বিষয় খোাঁজ নিচ্ছি। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সুনামগঞ্জে এসেও নানা বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হবে।’
গত বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের হাওর রক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমদ বাদী হয়ে গত ২ জুলাই ১৫ জন প্রকৌশলী ও ৪৬ জন ঠিকাদারকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এই মামলার    
আসামীদের মধ্যে প্রথমেই সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দীন, সিলেট সার্কেলের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম সরকার, সিলেট উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই’এর নাম রয়েছে।
মামলা দায়েরের পর ঐ দিনই রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে আফছার উদ্দিন ও ঢাকার ঠিকাদার বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এর মধ্যে পাউবো’র বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী আফছর উদ্দিন গত ২৫ অক্টোবর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। গত ২৩ অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারক কৃষ্ণ দেব নাথ ও ওবায়দুল হক’এর বেঞ্চ থেকে জামিন লাভ করেন এই অভিযুক্ত কর্মকর্তা।